kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মেহেরপুরে জমি বেচাকেনা নিয়ে বিপাকে মানুষ

চার রেজিস্ট্রারের তিনজনই নেই

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেহেরপুরে জমি বেচাকেনা নিয়ে বিপাকে মানুষ

মেহেরপুরে জেলা রেজিস্ট্রারসহ চার রেজিস্ট্রারের মধ্যে তিনজনই নেই। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে নেই জেলা রেজিস্ট্রার। এ ছাড়া গাংনী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার নেই গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে। আর এক বছর ধরে নেই মুজিবনগর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার। শুধু সদর সাবরেজিস্ট্রার নিজ কার্যালয়ের পাশাপাশি সপ্তাহে এক দিন যান মুজিবনগর সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে। এ অবস্থায় জমি বেচাকেনা নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলাবাসী।

জানা যায়, ভৌগোলিক দিক থেকে গাংনী উপজেলা হচ্ছে জেলার অর্ধেক। এখানে জনসংখ্যাও বেশি। ফলে জমি কেনাবেচনার পরিমাণও অনেক। প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। সর্বশেষ সাবরেজিস্ট্রার গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর বদলি অবস্থায় ৯ হাজার ৯৭৪টি দলিল ভলিউম রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়ায় ছিল। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার ভলিউম হয়েছে। কিন্তু সাবরেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরের অভাবে সেগুলো মালিকদের দেওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে আরো ছয় হাজার ৯৭৪টি দলিল ভলিউম রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার দলিল হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে দলিল মালিকরা।

শূন্যপদ পূরণ সাপেক্ষে সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে বেকার সময় পার করছেন দলিল লেখক ও তাঁদের সহকারীসহ দুই শতাধিক মানুষ।

জমি ক্রেতা পূর্ব মালসাদহ গ্রামের মুক্তার হোসেন বলেন, ‘আমি এক প্রবাসীর কাছ থেকে দেড় বিঘা জমি কিনে রেজিস্ট্রির দিনক্ষণ ঠিক করি। এখন সেই প্রবাসী আবারও বিদেশ চলে যাচ্ছেন। এখন জমি রেজিস্ট্রি না হলে আমার জমির মালিকানা অনিশ্চিত। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছি।’

গাংনী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ওমর আলী বলেন, ‘গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে সাবরেজিস্ট্রার বদলি হলেও তারও ১০ দিন আগে থেকে তিনি ছুটিতে ছিলেন। ফলে এক মাস ধরে জমির দলিল রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ আছে। দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ থাকায় আমরা ৭০ জন মুহুরি ও ১৫০ জন সহকারী বেকার সময় কাটাচ্ছি। ফলে জমি বেচাকেনা পুরোপুরি বন্ধ আছে। অন্যদিকে ডিসেম্বর মাসে আমাদের সনদ নবায়ন হয়নি। জেলা রেজিস্ট্রার না থাকায় আমাদের দুর্ভোগের কথা বলার জায়গাও নেই।’

এদিকে মুজিবনগর ও সদর উপজেলা কার্যালয় সামলাচ্ছেন সদরের সাবরেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম। সদর উপজেলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতি বুধবার তিনি মুজিবনগরে জমি রেজিস্ট্রি করেন। এতে সদর ও মুজিবনগরের মানুষও ভোগান্তিতে আছে। সময়মতো দলিল রেজিস্ট্রি ও দলিলের নকল না পেয়ে জরুরি কাজ আটকে যাচ্ছে অনেকের। 

২০১৩ সাল থেকে মুজিবনগর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের স্থায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে প্রতি সপ্তাহে ৬০-৭০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। ২০১৫ সাল থেকে সাবরেজিস্ট্রার সাদিকুল ইসলাম তালুকদার ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। তারপর থেকেই এ পদ ফাঁকা।

সাবরেজিস্ট্রার পদায়ন এবং বদলি হয় আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় থেকে। তাই এ সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া ভোগান্তি লাঘব সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আশা করছি এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত শূন্যপদে সাবরেজিস্ট্রার নিয়োগ দেবে মন্ত্রণালয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা