kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

উলিপুর

টাকা ছাড়া মেলে না ভাতা

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও দলিত সম্প্রদায়ের প্রায় ২১ হাজার ১৫২ জন নারী ও পুরুষকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব ভাতাভোগীদের তালিকা তৈরিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আর্থিক সুবিধা নেওয়ায় প্রকৃত উপকারভোগীরা বছরের পর বছর তালিকার বাইরে থাকছে।

এদিকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকাই চূড়ান্ত হচ্ছে। ফলে উপজেলার হাজার হাজার বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব ভাতাভোগীদের মধ্যে ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের ১২ হাজার ৫৫৪ জন নারী ও পুুরুষের মধ্যে বয়স্ক ভাতা হিসেবে সাত কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা, চার হাজার ৯৮৬ জন নারীকে বিধবা ভাতা হিসেবে দুই কোটি ৯৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা, তিন হাজার ৫৫৭ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে তিন কোটি ২০ লাখ ১৩ হাজার টাকা ও দলিত সম্প্রদায়ের ৫১ জনের মধ্যে তিন লাখ ছয় হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে হতদরিদ্র পরিবারের এসব অবহেলিত বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভাতা ব্যবস্থা চালু করে। কিন্তু এসব ভাতাভোগীর তালিকা তৈরিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক বাণিজ্যের কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা অনেকটাই বঞ্চিত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে পাঁচ হাজার থেকে আট হাজার টাকা দিয়ে বছরের পর বছর ঘুরেও তালিকাভুক্ত হতে পারছে না প্রকৃত উপকারভোগীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের এক মাঠকর্মী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়নে বরাদ্দের চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি নামের তালিকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেন না চেয়ারম্যানরা। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের পরে তালিকা জমা দেওয়ায় এসব তালিকা যাচাই-বাছাই করাও সম্ভব হয় না। তা ছাড়া তালিকা থেকে কোনো নাম কাটলে চেয়ারম্যানরা তা মানতে চান না। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তাঁদের দেওয়া তালিকা চূড়ান্ত করতে হয়।

মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে ধরনা দিয়েও কার্ড পাননি বলে অভিযোগ করেন উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামের বিধবা রোকেয়া (৬০) ও বিধবা মহিরন বেওয়া (৬৩)। তাঁরা বলেন, মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে বছরের পর বছর ঘুরেও ভাতার কার্ড পাননি তাঁরা। টাকা ছাড়া কখনই ভাতার কার্ড পাওয়া যায় না। তবে সচেতন মহলের অভিমত, সরকার প্রতিবছর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করলেও এর সুফল পাচ্ছে না প্রকৃত সুবিধাভোগীরা। এ উপজেলায় দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলো সরকারের দেওয়া সুবিধা না পেলেও সচ্ছল ব্যক্তিরাই এসব সুবিধা ভোগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘চলতি বছর মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তালিকা তৈরি করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ভাতাভোগী নির্ধারণ করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভাতাভোগী নির্ধারণ করা হবে, যাতে কেউ কোনোভাবেই অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা