kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঘুমন্ত পরিবার তালাবদ্ধ

নাটোরে আদালত এড়িয়ে চেয়ারম্যানের বিচার

নাটোর প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাটোরের নলডাঙ্গায় আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে সালিস ডেকে রায় দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। ওই রায় না মানায় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওই পরিবারের সদস্যদের রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরদিন সকালে পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে ওই পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে। উপজেলার সেনভাগ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের সেনভাগ গ্রামের আবু জাফর আলী পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৯ শতক জমিতে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু প্রতিবেশী নাজিরের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওই জমি নিজেদের দাবি করে ১৯৯৮ সালে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আনোয়ার হোসেন স্থানীয় পিপরুল ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করেন।

গত শনিবার ইউপি চেয়ারম্যান কলিমউদ্দিন দুই পক্ষকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদে সালিসি বৈঠকে বসেন। সেখানে আবু জাফর আলীর নামে দলিল ও খাজনা খারিজের কাগজপত্র থাকলেও ওই জমির দখল ছাড়াতে তাঁর বসতঘরে তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন এবং দুই পক্ষকে ওই জমিতে না যেতে বলেন। কিন্তু আবু জাফর এ রায় প্রত্যাখ্যান করেন। এই অবস্থায় গত রবিবার আবু জাফরের পরিবারের সদস্যরা রাতে ঘুমিয়ে পড়লে চারটি ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে।

আবু জাফর বলেন, ‘আমার বসতবাড়ির ৯ শতক জমি আমি পৈতৃক সূত্রে পেয়ে খাজনা খারিজ করে বাড়িঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু সালিসের রায় মেনে না নেওয়ায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সুরুজ আমার ঘুমন্ত পরিবারের চার ঘরে তালা লাগিয়েছে। সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরে ঘরে তালা লাগানো। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে আমাদের উদ্ধার করে।’

তবে পিপরুল ইউপি চেয়ারম্যান কলিমউদ্দিন ঘরে তালা লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘গত শনিবার ইউনিয়ন পরিষদে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই পক্ষের সম্মতিতে ওই জমিতে কেউ যেতে পারবে না মর্মে বাড়িতে তালা লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সুরুজকে তালা লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সুরুজ বাজার থেকে নতুন তালা কিনলেও তা লাগাননি।’

নলডাঙ্গা থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান, দুই পক্ষকে থানায় বসে শান্তি স্থাপনের জন্য সিদ্ধান্ত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা