kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কমলগঞ্জে গণশিক্ষার নামে টাকা লোপাট!

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কমলগঞ্জে গণশিক্ষার নামে টাকা লোপাট!

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীনে মৌলিক সাক্ষরতার (গণশিক্ষা) নামে লাখ লাখ টাকা লোপাট হচ্ছে। ছয় মাসের প্রকল্পের উপকরণ কেনার নামে এনজিও সংস্থা ওয়াফ ও নামে মাত্র শিক্ষকদের মাধ্যমে এসব টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থী ছাড়া স্থানে স্থানে নামে মাত্র স্কুল ও শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে ছয় মাসে এসব টাকা গচ্চা গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বয়স্কদের জন্য গণশিক্ষা শিক্ষা কার্যক্রম মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলায় গত বছরের জানুয়ারিতে শুরু হয়। প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন হয় জুনে। স্থানীয় এনজিও সংস্থা কমলগঞ্জের দায়িত্ব পায় ওয়াফ ও কুলাউড়া উপজেলার দায়িত্ব পায় প্রচেষ্টা। শুরু থেকেই নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভাড়ায় চালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবা ও রাত্রিকালীন দুই শিফট চালু করা হয়। বাস্তবে গণশিক্ষার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে স্কুল চালু দেখানো হয়। স্কুল চালুর পর চা বাগানের নামে মাত্র হাতে গোনা দু-একটি স্কুল দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো শিক্ষার্থী ও স্কুল পরিচালনায় শিক্ষকের উপস্থিতি নেই। সরকারি প্রকল্পের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

এনজিও সংস্থা ওয়াফের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জে ৩০০ শিখনকেন্দ্র চালু দেখানো হয়। ৩০০ গণশিক্ষা কেন্দ্রের বিপরীতে পুরুষ ও মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০০ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের দেখাশোনার জন্য পুরো উপজেলায় ১৫ জন সুপারভাইজার নিয়োগ হয়। শিক্ষকদের মাসিক এক হাজার ২০০ টাকা ও সুপারভাইজারদের দুই হাজার ৫০০ টাকা বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াই গণশিক্ষা কার্যক্রম দেখানো হয়। শুরু থেকে খাতা-কলমসহ নানা উপকরণের ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে একসঙ্গে ছয় মাসের উপকরণ কেনার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। যাদের নাম আছে, স্কুল নেই তারাও টাকা তুলে নিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কাছ থেকে এনজিওরা কিছু টাকা কেটে নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও সুপারভাইজার বলেন, ‘স্কুল না থাকলেও স্কুল দেখাতে বলা হয়। স্কুল চালু করতে গেলে বয়স্ক শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। এসব প্রকল্পে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও আংশিক টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা দিতে গড়িমসি করা হয়। এনজিও সংস্থা ওয়াফ গণশিক্ষার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’

সূত্রমতে, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এনজিও সংস্থা ওয়াফ ছয় মাসের উপকরণ কেনার জন্য ১৮ লাখ টাকা বিল স্বাক্ষরের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে জানেন না বলে স্বাক্ষর দিতে রাজি হননি। পরে ওয়াফের চাপে বিলে স্বাক্ষর দেন তিনি।

এ বিষয়ে ওয়াফের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুল মালিক বলেন, আসলে দেখাশোনার পর্যাপ্ত লোকবল ছিল না। তবে কিছু সমস্যা হলেও প্রকল্পের কার্যক্রম ও গণশিক্ষা ঠিকমতো পরিচালিত হয়েছে। কোথাও কোনো টাকা লোপাট হয়নি। তা ছাড়া গত জুনে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।

কমলগঞ্জের গণশিক্ষা প্রকল্পের প্রগ্রাম অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, আসলে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে এনজিওরা কিছু ফাঁকি দিয়েছে। তবে চা-বাগানে মোটামুটি স্কুল দেখা গেছে। তিনি আরো বলেন, কিছু ক্ষেত্রে যারা স্কুল চালায়নি, তারাও টাকা তুলে নিয়েছে। তা ছাড়া যতটুকু সম্ভব কাজ আদায় করে নেওয়া হয়েছে। আর প্রকল্পের কাজ গত জুনে শেষ হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও শিক্ষকদের বকেয়া বেতন দেওয়া হয়েছে দুই ধাপে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা