kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

উলিপুর

গুদামে ধান দিচ্ছেন ফড়িয়ারা

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুড়িগ্রামের উলিপুর সরকারি খাদ্যগুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ধান কেনা হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে। এতে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকরা যেন ভালো মুনাফায় গুদামে ধান দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সারা দেশের মতো উলিপুরেও খাদ্য অধিদপ্তর ইউনিয়ন পর্যায়ে লটারির ব্যবস্থা করে। কিন্তু প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন না।

সরেজমিনে উলিপুর খাদ্যগুদাম ঘুরে দেখা যায়, কয়েক ট্রলিবোঝাই ধান এনে গুদামে ঢোকানো হচ্ছে। সেখানে কোনো কৃষককে দেখা যায়নি। তবে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন লোক এ ধরনের কাজ আর কখনো করবেন না বলে ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লটারিতে বিজয়ী কৃষকদের কৃষি কার্ড এক থেকে দুই হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছে সিন্ডিকেটের লোকজন। এতে সহযোগিতা করছেন খাদ্য বিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ২০ নভেম্বর থেকে আমন ধান সংগ্রহ শুরু হলেও এ উপজেলায় শুরু হয় ১৯ ডিসেম্বর। প্রতি কেজি আমন ধান ২৬ টাকা মূল্যে সরকারিভাবে কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় দুই হাজার ৫৬৪ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৩৯৯ মেট্রিক টন।

প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট ও খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রলিতে করে ধান এনে গুদামে ঢোকান বলে জানা গেছে।

খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমি উপজেলা পরিষদে থাকাকালীন কয়েকটি ট্রলি ভুলে গুদামে ঢুকে যায়। পরে ট্রলিগুলো গুদাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে ধানগু?লো কার সে ব্যাপারে কিছু জানতে পারিনি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হেমন্ত কুমার বর্মণের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে এসএমএস দিলেও তিনি ফোন করেননি। এ কারণে এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পর তা তদন্তের জন্য খাদ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা