kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সাত মাসেও চালু হয়নি শ্রম আদালত

সিলেটের শ্রমিকদের যেতে হচ্ছে চট্টগ্রামে
মৌলভীবাজারে ভোগান্তির শিকার চা শ্রমিকরা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাত মাসেও চালু হয়নি শ্রম আদালত

সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর সাত মাস অতিবাহিত হলেও মৌলভীবাজার বা সিলেটে শ্রম আদালতের কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। এ কারণে শত শত শ্রমিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ২০১৯ সালের ২৪ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন তিনটি শ্রম আদালত স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন মামলায় সিলেটের শ্রমিকদের চট্টগ্রাম শ্রম আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। সিলেট বিভাগের শ্রমিক সংগঠনসহ ভুক্তভোগী শত শত শ্রমিক শ্রম আদালতটি মৌলভীবাজার বা সিলেটে স্থাপনের দাবি জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০১৯ সালের ২৪ জুন ঢাকা বিভাগে তিনটি, চট্টগ্রাম বিভাগে দুটি, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে একটি করে সাতটি শ্রম আদালতের পাশাপাশি সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের জন্য তিনটি শ্রম আদালত স্থাপনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় শ্রম আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় সিলেট বিভাগের কোনো মামলা গ্রহণ করা হযনি।

পরবর্তী সময়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত বছরের নভেম্বর থেকে চট্টগ্রাম শ্রম আদালত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সিলেট শ্রম আদালতের মামলা গ্রহণ করছেন। তাতে সিলেট বিভাগের কয়েক লাখ শ্রমিকের দুর্ভোগ রয়েই গেছে।

শ্রম আদালত হচ্ছে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার বাস্তবায়নের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। তবে ২৪ জুন শ্রম আদালত, সিলেট ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি হলেও দীর্ঘ সাত মাসেও এর কার্যক্রম চালু হয়নি।

চা বাগান অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের লক্ষাধিক চা-শ্রমিকসহ হোটেল, স মিল, চাতাল, মুদ্রণসহ সব ধরনের শ্রমিকের চট্টগ্রামের দ্বিতীয় শ্রম আদালতে শ্রমিকদের আইনি প্রতিকারের জন্য মামলা করতে হতো।

চা শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক রাজদের কৈরী বলেন, ‘দৈনিক ১০২ টাকা মজুরিতে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। কোনো কারণে চাকরিতে সমস্যা হলে শ্রম আদালতের জন্য চট্টগ্রামে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে আমরা আইনি প্রতিকার চাইতেও পারি না। জরুরি

ভিত্তিতে সিলেট শ্রম আদালত চালু করা দরকার।’

মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রম আদালত, সিলেটের ঘোষণা দেওয়া হলেও আদালতের কার্যক্রম চালু হয়নি। আমরা অবিলম্বে শ্রম আদালতের কার্যক্রম শুরুর দাবিতে মিছিল, সভা-সমাবেশ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি।’

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস বলেন, লক্ষাধিক চা-শ্রমিকসহ কয়েক লাখ শ্রমিকের জন্য আদালতের কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। পাশের হবিগঞ্জে অনেক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে এবং মৌলভীবাজারের শেরপুরে শ্রীহট্ট ইকোনমিক জোনের কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে। শ্রমঘন হিসেবে এসব এলাকার শ্রমিকদের সুবিধাজনক স্থান হিসেবে শ্রীমঙ্গলে শ্রম আদালত চালু করা যৌক্তিক। তা ছাড়া কয়েক বছর আগে শ্রীমঙ্গলে সার্কিট আদালত চালু ছিল।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গলের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, শ্রম আদালত চালু হলে শ্রমিকদের অধিকার সমুন্নত হবে। মৌলভীবাজার না হলে সিলেটে হলেও শ্রমিকদের ভোগান্তি লাঘব হবে। তিনি শ্রম আদালত দ্রুত স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা