kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বগুড়ায় হাসপাতালে রোগীসহ স্বজনদের মারধরের অভিযোগ

শাস্তি দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) রোগীসহ মুক্তিযোদ্ধা ও স্বজনদের মারধর এবং ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে গতকাল রবিবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা সদরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে ওই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, বুকে ব্যথার কারণে গত শুক্রবার সকালে তাঁর স্ত্রীকে শজিমেক হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করান। সেখানে সিসিইউ বেড নম্বর ৩-এ চিকিত্সাধীন ছিলেন তাঁর স্ত্রী। শনিবার বিকেলে সেখানে দায়িত্বরত দুজন চিকিৎসক তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে বেড ছেড়ে দিয়ে বাইরে ফ্লোরে যেতে বলেন। খবর পেয়ে বিকেলে তিনি (হেলাল) হাসপাতালে গিয়ে বেড ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় ছাড়পত্র নিয়ে বেড় ছাড়ার কথা বললে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে গ্রিলের দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করেন। পরে মোবাইল ফোনে ১০-১২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে ডেকে এনে তাঁকে বেদম মারধর করেন। এ সময় তাঁর অসুস্থ স্ত্রী ও শ্যালক এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করেন। এ দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে তাঁর মেয়েকেও মারধর করে মোবাইল কেড়ে নেন। খবর পেয়ে তাঁর দুই ছেলে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালে আবার ২০-২৫ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের সামনে বেদম মারধর করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরাও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেখানে ভাঙচুর করেন। সন্ধ্যার পর সদর থানা পুলিশ সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নেয়। এ অবস্থায় তাঁর স্ত্রী আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিত্সা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথাও জানান ভুক্তভোগী ওই মুক্তিযোদ্ধা।

মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল আজিজ মণ্ডল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘রোগীর লোকজনদের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

মন্তব্য