kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

পেঁয়াজ চাষে কৃষক হাসে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীর বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় স্থানীয়ভাবে দাম অনেকটাই কমে এসেছে। নতুন পেঁয়াজের দাম পেয়ে এবার রাজশাহীর কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ চাষের প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন ১০০ টাকার নিচে নেমে এলেও কৃষকরা তাতে খুশি। এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি জমিতে কৃষক পেঁয়াজের চারা রোপণও করেছে। কিন্তু গতকাল রবিবার সকালের বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ চাষ কিছুটা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে আজ সোমবার বা আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত না হলে রাজশাহীর কৃষকরা জমিতে আবারও পুরোদমে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।

এদিকে এ বছর রাজশাহীতে ১৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। আর এ পরিমাণ জমি থেকে এ বছর প্রায় দুই লাখ ১৮ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উত্পাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছর এই মৌসুমে রাজশাহীতে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। সেখান থেকে প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উত্পাদিত হয়। গত বছরের শেষ দিকে কৃষকরা পেঁয়াজের ভালো দাম পায়। এখন বাজারে যে ‘ছাচি’ বা ‘ঢেমনা’ পেঁয়াজ আসছে, সেটিরও আশানুরূপ দাম পাচ্ছে তারা।

রাজশাহী কৃষি বিভাগ সূত্র মতে, এ বছর অর্ধেকের বেশি জমিতে এরই মধ্যে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হয়েছে। কয়েক দিন বৃষ্টিপাত না হলে বাকি জমিতেও রোপণের কাজ শেষ হবে। নতুন এই পেঁয়াজ বাজারে আসতে আড়াই থেকে তিন মাস লাগবে। তত দিন বর্তমানে বাজারে আসা পেঁয়াজেই চলে যাবে। ফলে বাজারে আর নতুন করে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

রাজশাহীর দুর্গাপুরের পেঁয়াজ চাষি আলতাফ হোসেন প্রতিবছরই পেঁয়াজ চাষ করেন। এ বছরও এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তা ছাড়া প্রায় ৩০ মণ চারা বিক্রি করেছেন অন্য চাষিদের কাছে। আরো মণ ত্রিশেক চারা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি বলেন, এখনো অনেক কৃষক পেঁয়াজের চারা রোপণ করতে পারেনি। এরই মধ্যে বৃষ্টিতে বাগড়া দিল। তবে মুষলধারে বৃষ্টি না হওয়ায় এখনো জমি চারা রোপণের উপযোগী আছে। নতুন করে আবার বৃষ্টি হলে রাজশাহীতে পেঁয়াজ চাষ ব্যাহত হবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপপরিচালক শামসুল হক জানান, এ বছর ভালো দাম পেয়ে পেঁয়াজ চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। এ কারণে গত বছরের চেয়ে এ বছর পেঁয়াজ চাষে চাষিদের আগ্রহও বেড়েছে।

কেশবপুরে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছে : এদিকে কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, ভালো দাম পেয়ে যশোরের কেশবপুরে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। উপজেলায় গতবারের চেয়ে এবার পেঁয়াজের আবাদ বেশি হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মোশাররফ হোসেন মোড়ল এবার দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। গত বছর তিনি মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। বেশি জমিতে আবাদ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। উপজেলার ভোগতীনরেন্দ্রপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৬৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা