kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

শ্রী খাল-তুলসীগঙ্গা নদীর পানি হঠাৎ কালচে

মরছে মাছ, ব্যাহত সেচ

জয়পুরহাট চিনিকলের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পানি

নিয়াজ মোরশেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মরছে মাছ, ব্যাহত সেচ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখীতে চিনিকলের বর্জ্যমেশা পানি শ্রী খাল হয়ে তুলসীগঙ্গা নদীতে মিশছে। এ কারণে পানি কালচে রং ধারণ করেছে। পানিতে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। ছবিটি গত শনিবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্রী খাল ও পৌর সদরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলসীগঙ্গা নদীর পানি হঠাৎ কালচে রং ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে বর্জ্যের পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে খাল ও নদীপারের বাসিন্দারা। জয়পুরহাট চিনিকলের বর্জ্যের কারণে পানির রং এমন হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আক্কেলপুর পৌর শহরের সোনামুখী সেতুর দক্ষিণ পাশের অংশ থেকে শুরু করে তুলসীগঙ্গা নদী পর্যন্ত পানির রং কালচে আকার ধারণ করেছে। শ্রী খালটি সোনামুখী সেতুর কাছে এসে মিলিত হয়েছে। আর সেতুর উত্তর থেকে দক্ষিণে পানির স্রোত রয়েছে। তবে সেতুর উত্তরে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি ভালোই রয়েছে। বর্তমানে সেতুর দক্ষিণ পাশ থেকে হলহলিয়া রেল সেতু পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদীপথের পানি কালচে রং হয়ে রয়েছে। পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। নদীর মাছ মরে যাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে সেচকাজ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ২০ দিন আগেও শ্রী খাল ও নদীর পানি পরিষ্কার ছিল। তখন নদীর পানি ব্যবহার করতে পারত তারা। শ্রী খাল ও নদীপারের বাসিন্দারা জানায়, জয়পুরহাট চিনিকলে আখ মাড়াই কার্যক্রম চলছে। আর চিনিকলের বর্জ্যে শ্রী খাল ও তুলসীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত হয়েছে।

আওয়ালগাড়ী গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্রী খালের দুই পাশ দিয়ে রয়েছে কৃষিজমির আবাদ। আর এসব জমিতে পানি সেচ দেওয়া হতো ওই খাল থেকেই। কিন্তু ২০-২৫ দিন ধরে শ্রী খাল ও নদীর পানি কোনো কাজেই ব্যবহার করতে পারছেন না ওই এলাকার কৃষকরা। দূষিত পানিতে শ্রী খালের সব মাছ ও জলজ প্রাণী মারা গেছে। সেই সঙ্গে তুলসীগঙ্গা নদীর মাছও মরে যাচ্ছে। এর আগেও চিনিকলের বর্জ্যে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত হয়েছিল।

আওয়ালগাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল বাসেদ বলেন, ‘আগে শ্রী খালের পানি দিয়ে জমিতে সেচ দিতাম। এখন খালের পানি কালচে হওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না।’

শ্রী খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি (পাবসস) লিমিটেডের সভাপতি আবু মোতালেব বলেন, ‘জয়পুরহাট চিনিকলের দূষিত বর্জ্যের পানি শ্রী খালে আসায় আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে খালে ছেড়ে দেওয়া সমস্ত মাছ মারা গেছে। খালের পানি এলাকার কোনো কৃষক ব্যবহার করতে পারছে না। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো কাজ হয়নি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগেও শ্রী খাল ও তুলসীগঙ্গা নদীর পানি ভালো ছিল। খাল ও নদীপার এলাকার অনেক কৃষক এ পানি সেচকাজে ব্যবহার করতেন। কিন্তু জয়পুরহাট চিনিকলের পানিতে শ্রী খাল ও তুলসীগঙ্গা নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’

জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, ‘চিনিকলের বর্জ্য নিজস্ব পুকুরেই ফেলা হয়। পরে সেখান থেকে পানি গড়িয়ে নালা দিয়ে তুলসীগঙ্গা নদীতে যায়। চিনিকলের বর্জ্যের পানিতে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত হয়েছে—এটা সঠিক নয়। কারণ এলাকার সব অপরিষ্কার পানিই নদীতে গিয়ে পড়ছে। এখন এককভাবে আমাদের দায়ী করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জয়পুরহাট চিনিকলে ইটিপি স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে এখানে মেশিন বসানো হবে। তখন বোঝা যাবে নদীর পানি কেন দূষিত হচ্ছে?’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা