kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঘাটাইলে অভাবী কৃষকদের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘাটাইলে অভাবী কৃষকদের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ফসলি জমির মাটির উপরিভাগ কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। কৃষকদের অভাবের সুযোগে এসব মাটি কিনে নিয়ে ইট তৈরির কাজে লাগাচ্ছে ভাটা মালিকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ফসলি জমির টপ সয়েল বা মাটির উপরিভাগ কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। কৃষকদের অভাবের সুযোগে এসব মাটি কিনে নিয়ে ইট তৈরির কাজে লাগাচ্ছেন ভাটা মালিকরা। মূলত নগদ টাকার আশায় জমির মালিকরা মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে উর্বরতা শক্তি হারিয়ে চাষাবাদের অযোগ্য হচ্ছে কৃষিজমি। এতে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা।

আইনের প্রয়োগ না থাকায় মাটি ব্যবসায়ীরা এক শ্রেণির দালাল দিয়ে সাধারণ কৃষককে লোভে ফেলে জমির টপ সয়েল নির্বিঘ্নে কেটে নিচ্ছেন। ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইলে মোট ইটভাটার সংখ্যা ৬০। ভাটা মালিকদের দাবি অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫টি ইটভাটার লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগেরই লাইসেন্স নবায়ন নেই। ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত আইন না মেনে বনের ভেতর, আবাসিক এলাকা, তিন ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় এসব ভাটা স্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইলে আবাদি জমির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৫০ হেক্টর। প্রতিটি ইটভাটা স্থাপনে পাঁচ থেকে সাত একর জমির প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী ৬০টির মতো ইটভাটা স্থাপনেই চলে গেছে কমপক্ষে ৪০০ একর আবাদি জমি। আর এসব ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য প্রতিবছর শত একর ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার কারণে ফসলের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন জৈব উপাদানের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

কৃষিবিদ হাসান ইমাম বলেন, ফলনযোগ্য জমির উৎপাদনশক্তি জমা থাকে মাটির ছয় থেকে ১৮ ইঞ্চি গভীরতায়। মাটির এই অংশে যেকোনো ফসল বেড়ে উঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসল প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে বড় হয়। এই টপ সয়েল একবার কেটে নিলে সে জমির আর মৃত্তিকা প্রাণ থাকে না। ফলে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ওই জমিতে কোনো ফসল উৎপাদিত হয় না। এতে জমিটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইটভাটা এলাকা ও এর আশপাশের বেশির ভাগ ফসলি জমির মাটি পাঁচ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে কাটা হয়েছে। এতে এসব ফসলি জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে।

মাটি বিক্রি করেছেন এমন চার-পাঁচজন কৃষক জানান, ইটভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য এক শ্রেণির দালাল গ্রামে গ্রামে ঘুরে টাকার লোভ দেখিয়ে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে উৎসাহ জোগায়। ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় সহজ-সরল কৃষকরা এই ফাঁদে পড়ে ফসলি জমির মাটি স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে দেয়। জমির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কথা অনেক কৃষকই জানে না। আবার অনেকে ফসলের সঠিক দাম না পাওয়ায় জমির মাটি বিক্রি করে। অর্থাৎ টাকার লোভেই কৃষক জমির মাটি বিক্রি করে। মাটি বিক্রি করে জমির ক্ষতি করছেন কেন জানতে চাইলে কালিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, ‘ধানের দাম নেই। ফসল আবাদ করে প্রতিবছরই লোকসান হয়। তাই মাটি বিক্রি করে দিয়েছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. উম্মে হাবিবা জানান, জমির টপ সয়েল বিক্রি করলে জমির উৎপাদনশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। জমির টপ সয়েল বিক্রি না করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা