kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

অসমাপ্ত সেতুর পিলারে পলি জমছে কপোতাক্ষে

রোকনুজ্জামান টিপু, তালা (সাতক্ষীরা)   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসমাপ্ত সেতুর পিলারে পলি জমছে কপোতাক্ষে

কপোতাক্ষের বুকে পরিত্যক্ত পিলার

এক পারে তালা উপজেলা, অন্য পারে পাইকগাছা। মাঝখানে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদ। নদের দুই পারের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০০ সালে সরকার কানাইদিয়া-কপিলমুনি সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়মের পাশাপাশি পাউবোর খামখেয়ালিতে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় সেতুটির নির্মাণকাজ। তবে নদ থেকে যায় ১৮টি পরিত্যক্ত পিলার। এসব পিলারের কারণে পলি জমে নদ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল আধুনিক কপিলমুনির প্রতিষ্ঠাতা রায় সাহেব বিনোদবিহারী সাধুর। এই সেতুর মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর হয়ে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কিছু লোকের বিরোধিতা আর দেশ স্বাধীনের আগে তাঁর ভারতে চলে যাওয়ার কারণে এই সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগ সরকার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন হক অ্যাসোসিয়েট ২০০০ সালের ১২ এপ্রিল এর কাজ শুরু করে। ২০০৩ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত আংশিক কাজ করে এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ বন্ধ করে দেয়। ওই সময় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। একপর্যায়ে সেতু নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে নদের বুকে থেকে যায় ১৮টি পিলার। আর এই আংশিক কাজ শেষ হওয়া পিলারে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পলি জমে কপোতাক্ষের নাব্যতা কমে যায়। মৃতপ্রায় নদকে পুনরুজ্জীবিত করতে কপোতাক্ষপারের মানুষ নদী খননের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করে। ফলে ২০১১ সালে নদ খননে প্রায় ২৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।

এলাকাবাসী জানায়, অসমাপ্ত সেতুর ১৮টি পরিত্যক্ত পিলার অপসারণ না করেই কপোতাক্ষের খননকাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে পিলারগুলোর কারণে একদিকে যেমন জোয়ার-ভাটায় পলি জমে নদ ভরাট হচ্ছে, অন্যদিকে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।

সর্বশেষ এ বছর মৌসুমের অনেক আগেই নদে পলি পড়া শুরু করে। এতে পিলারের কারণে নদের তলদেশ ভরাট হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কপোতাক্ষ তার নাব্যতা হারাবে। এতে জলাবদ্ধতার শিকার হবে ৫০ লাখের বেশি মানুষ।

তালা উপজেলা ‘কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন’ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কানাইদিয়া-কপিলমুনি সেতুর পিলারের কারণে পলি জমে নদ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (যশোর জোন) নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা