kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

শাজাহানপুরে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

কমছে ফসলি জমি উৎপাদনে ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাজাহানপুরে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

বগুড়ার শাজাহানপুরে কৃষিজমি থেকে অবাধে কাটা হচ্ছে মাটি। ছবিটি উপজেলার হাজীপাড়া থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার শাজাহানপুরে ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে, যা সরাসরি বিভিন্ন ইটভাটায় চলে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এভাবে মাটি কেটে নেওয়ার জন্য অবৈধ ব্যবসায়ীরা জমির মালিকদের প্রলুব্ধ করছেন বলে অভিযোগ। তাঁরা ভাটা মালিকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে এ কাজ করছেন। তবু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতনমহল।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাজাপুর বারুনীপাড়ায় ফসলি জমি থেকে মাটি কাটছেন ব্যবসায়ী লয়া মিয়া। অন্যদিকে হাজীপাড়ায় যন্ত্রের মাধ্যমে বসতঘরের নিচে গভীর গর্ত করে মাটি কাটছেন শ্রমিক নেতা সাইদুর। এ ছাড়া জালশুকা খাউড়া সেতু, খলিশাকান্দি, জোকা, সুজাবাদ, খরনা, কামারপাড়া, চোপীনগর, দরিকুল্যা, কচুয়াদহ রঙ্গিলা সেতু, মাদলা মালীপাড়া, নিশ্চিন্তপুর নন্দপাড়া, ফুলকোট, রাধানগর, জামালপুর, সোনাকানিয়া, পারতেখুর, চকজোড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি থেকে কাটা হচ্ছে মাটি।

এভাবে মাটি কাটার ফলে উর্বরতা হারাচ্ছে জমিগুলো। একই সঙ্গে কমে আসছে ফসলি জমির পরিমাণ। দেখা দিয়েছে ভূমিধসের আশঙ্কা। এ ছাড়া মাটিবাহী ট্রাক চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ, পথঘাট, সেতু-কালভার্ট।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম জানান, উপজেলায় ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলি জমি আছে। এর মধ্যে একফসলি ৬৪০ হেক্টর, দুইফসলি পাঁচ হাজার ২০০ হেক্টর, তিনফসলি ৯ হাজার ৮১০ হেক্টর ও চারফসলি ৫৫০ হেক্টর। অবাধে মাটি কাটার ফলে ফসলি জমির পরিমাণ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় ফসল উৎপাদনের ওপর চরম প্রভাব পড়বে।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীর অভিযোগ করেন, ‘গোটা উপজেলায় যেভাবে মাটি কাটার উৎসব শুরু হয়েছে, তাতে একসময় ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে মাঝিড়া, খোট্টাপাড়া, মাদলা, চোপীনগর, আমরুলসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। পাশাপাশি মাটিবাহী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক, সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে সরকারের।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে যদি সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে প্রশাসন ইচ্ছা করলেই সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। কিন্তু প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রশাসনের নীরব ভূমিকাই প্রমাণ করে তারা ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করছেন।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা পারভীন বলেন, ‘যখন যেখানে খবর পাচ্ছি, সেখানে অভিযান চালাচ্ছি। এখানে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা