kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

ভুল চিকিৎসায় শিশুর জীবন সংকটে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভুল চিকিৎসায় শিশুর জীবন সংকটে

মায়ের কোলে ভুক্তভোগী শিশু শরিফ হোসেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ে ডিপ্লোমা ইন প্যারামেডিক্যাল অপটিক ফিজিশিয়ান এক ব্যক্তি একাধিক চেম্বার করে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুরুতে নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করলেও পরে তা সরিয়ে দেন তিনি। গ্রামগঞ্জে তাঁকে চোখ, নাক, কান, গলা ও মাথা ব্যথা রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলে মাইকে প্রচার করা হয়। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে। সম্প্রতি তাঁর ভুল চিকিৎসায় এক শিশুর জীবন সংকটে পড়েছে। বর্তমানে ওই শিশু ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে শিশুটির পরিবার গত মঙ্গলবার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের হুলাসুজোত গ্রামের নকিবুল ইসলামের চার বছরের ছেলে শরিফ হোসেনের কানে হঠাৎ সংক্রমণ হয়। কানে ব্যথা শুরু হলে গত ২৪ নভেম্বর তেঁতুলিয়া বাজারের খান ফার্মেসিতে ডিপ্লোমা ইন প্যারামেডিক্যাল অপটিক ফিজিশিয়ান আইয়ুব আলীর কাছে নিয়ে যান। স্থানীয়দের কাছে আইয়ুব আলী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলে পরিচিত। শিশুটিকে দেখে তিনি ওষুধ লিখে দেন। ১৫ দিন পর আবারও তাঁকে দেখাতে বলেন।

১৫ দিন পর দেখালে সিরিঞ্জ দিয়ে কানে উপর্যুপরি পানি স্প্রে করেন তিনি। এরপর আবার কিছু ওষুধ লিখে দেন। কয়েক দিন পর থেকে শরিফ ঠিকমতো হাঁটতে পারছিল না। শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে সমস্যা হচ্ছিল। কানে শুনছিল না। শুধুই কান্না করছিল। এ অবস্থায় গত ২ জানুয়ারি তাকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। শিশুটির জীবন এখন কঠিন সংকটে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শিশুটির পরিবার জানায়, চিকিৎসকরা কোনো আশার খবর দিচ্ছেন না। শিশুটির মাথার সমস্যা ক্রমান্বয়ে জটিল আকার ধারণ করছে। ভালো চিকিৎসার সামর্থ্যও নেই পরিবারটির। শুরুতে আইয়ুব আলী চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবেন বললেও পরে আর এই কথায় থাকেননি।

শরিফের মা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘কান ওয়াশ করার পরই আমার ছেলের চোখ ও কানে সমস্যা হয়েছে। আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। হঠাৎ দেখি সে যেখানে-সেখানে পড়ে যাচ্ছে, ডাকলে শুনছে না। শুধু কান্নাকাটি করে। পরে জানতে পারি, সে কানে শুনছে না, চোখেও দেখছে না। এখন কী করব আমরা ভেবে পাচ্ছি না।’

শরিফের বাবা নকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মাইকিং শুনে ছেলেকে আইয়ুব আলীর কাছে নিয়ে গেছিলাম। কিন্তু আইয়ুব আলী সর্বনাশ করেছে। ছোট্ট একটা দোকান করে সংসার চালাতাম। সেটিও এখন বন্ধ। ভালো চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। আমি এত টাকা কোথায় পাব।’

তবে আইয়ুব আলী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার চিকিৎসায় তার কোনো সমস্যা হয়নি। তাকে দিনাজপুরে নিয়ে ভালো ডাক্তার দেখিয়েছি। মূলত মাথায় সমস্যার কারণেই তার চোখ ও কানে সমস্যা হয়েছে।’

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ভুল চিকিৎসায় শিশুর চোখ ও কানে সমস্যা হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ছাড়া কারো কাছে চিকিৎসা না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা