kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

নরসুন্দা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন

১১০ কোটি টাকার পরিকল্পনায় গলদ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জে ১১০ কোটি টাকার নরসুন্দা প্রকল্পের পরিকল্পনায় গলদ ছিল। এ কারণে ৩৩ কিলোমিটার নদী পুনঃখননের কাজ ঠিকভাবে হয়নি। অনেক স্থানে নদী খননের আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য নদীতে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হয়নি। শহরে নদীর দুই পারে ছয় কিলোমিটার হাঁটার পথের (ওয়াকওয়ে) কাজ নিম্নমানের হয়েছে। বেশ কিছু স্থানের হাঁটার পথ ধসে গেছে। প্রকল্পের আরো যে ২৩টি আনুষঙ্গিক কাজ রয়েছে সেই কাজগুলোও অসম্পূর্ণ।

কিশোরগঞ্জের ‘নরসুন্দা নদী পুনর্বাসন ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা উন্নয়ন’ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করেছে। প্রকল্পের কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় নদী খননের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দিয়ে এবং অন্যান্য কাজ ও মান বিষয়ে উপযুক্ত প্রকৌশলীদের দিয়ে অধিকতর তদন্ত করার পক্ষে মত দেয় এই তদন্ত কমিটি।

২০১৬ সালে গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট প্রতিবেদন দেয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদনটি এত দিন প্রকাশ পায়নি। কিশোরগঞ্জ নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের পেছনে লেগে থেকে দীর্ঘদিন পর তদন্ত প্রতিবেদনটি সংগ্রহ করে। গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানায়।

সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ সেলিম কবীর জানান, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে প্রতিবেদনটি তারা পেয়েছেন। নরসুন্দা প্রকল্পটি ছিল কিশোরগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যারা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে। নইলে এসব দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে কমিটি প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করেন। প্রতিবেদনে তিনিই সই করেন। কিশোরগঞ্জ নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পে যে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে এ প্রতিবেদনে অনেকটাই ফুটে উঠেছে।

অতিরিক্ত সচিব রইছ উদ্দিনের সই করা প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার হোসেনপুর উপজেলার জামাইল থেকে সদর উপজেলার নীলগঞ্জ পর্যন্ত ১৩টি সেতু, হাঁটার জন্য তৈরি সেতু (ফুট ওভারব্রিজ) ও কালভার্ট রয়েছে। নদী খননের সময় সেতুগুলোর নিচে খনন করা হয়নি। সেতুগুলো ধসে পড়তে পারে এ আশঙ্কায় এ কাজগুলো হয়নি। তা ছাড়া অনেক স্থানে নদী খননের আলামত পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য কামরুল হাসান বকুল, অনল চক্রবর্তী কানু, মো. শাহজাহান প্রমুখ।

প্রকল্পের মধ্যে ছিল হোসেনপুর উপজেলা থেকে সদর উপজেলার নীলগঞ্জ পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার নদী খনন, নদীর দুই পারের ছয় কিলোমিটার এলাকা বাঁধাইয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ, পৌর এলাকায় ছয়টি দৃষ্টিনন্দন সেতু, নদীর দুই পারে ছয় কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ২০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ, ওয়াচ টাওয়ার, মুক্তমঞ্চ, আটটি ঘাট ও একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা