kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলায় শিশুর মৃত্যু

চিকিৎসক-নার্স বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি    

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গত সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় সাড়ে তিন মাসের শিশু আমান রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। প্রসঙ্গত, আমান বাঘময়না গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে ছিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ গত সোমবার আমানের জ্বর আসে। পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে বহির্বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাহাদ হোসেন বলেন, ‘চিন্তার কারণ নেই, সামান্য শ্বাসকষ্ট হয়েছে। গ্যাস (নেবুলাইজার) দেওয়ার পর ঠিক হয়ে যাবে।’ এ জন্য জরুরি বিভাগে গেলে শিশুটিকে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

দুপুর ১টার দিকে শিশু বিভাগের নার্স টিংকু আচার্য আমানের শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ছয়টি ক্যানুলা পুশ করেন। কিন্তু তিনি রগের পরিবর্তে মাংসে ক্যানুলা পুশ করেন। এতে শিশুটির বাবা প্রতিবাদ করলে নার্স তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। সেদিন সন্ধ্যায় শিশুটির শরীরে আরো ছয়টি ক্যানুলা পুশ করা হয়। রাত ১২টার দিকে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল সাদাত বা কোনো নার্সকে পাননি। একপর্যায়ে শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। 

শিশুর বাবা জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, ‘ডাক্তার, নার্সদের গাফিলতির কারণে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নার্স টিংকু বলেন, ‘শিশুটির চিকিৎসার সময় আমি ছিলাম না।’ এ বিষয়ে আরেক অভিযুক্ত ডা. নাজমুল বলেন, ‘রাত ৮টায় আমি শিশুটিকে দেখে এসেছি। অবস্থার অবনতি হলে আমরা তার পরিবারকে বলেছি সিলেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর রাত ২টার দিকে শিশুটি মারা যায়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ডা. খায়কুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা