kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রানা

অনিয়মের আখড়া নোয়াগাঁও ইউপি

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অনিয়মের আখড়া নোয়াগাঁও ইউপি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রানার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে অনাস্থা দিয়েছেন আট ইউপি সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অনাস্থাপত্র দাখিল করেন তাঁরা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া পত্রটি গ্রহণ করেন।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি ছাড়াই চেয়ারম্যান হোসেন রানা প্রায়ই চীনে যাতায়াত করেন। তিনি সেখানে থান কাপড়ের ব্যবসা করেন। এতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ তাঁর আত্মীয়-স্বজনকে পাইয়ে দেন। বিনা মূল্যের ঘর দিতে কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান নিজে ও ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে কাজটি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সালিস বৈঠকে বিচারের নামে সাধারণ মানুষকে মারধর ও ছাত্রদের চুল কাটার অভিযোগও আলোচিত।

অনাস্থা আনা ইউপি সদস্যরা হলেন—মোস্তাফিজুর রহমান, সুলতানা রাজিয়া, মো. শেখ ফরিদ, মো. নুরনবী, নুরুল আমিন, হোসনেয়ারা বেগম, আবুল কাশেম মোল্লা ও মোহাম্মদ হোসেন বাবুল। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আরো অভিযোগ করা হয়, পরিষদের মাসিক ও প্রকল্প নিয়ে কোনো সভা হয় না। পরে সভাগুলোর রেজিস্টার খাতায় ইউপি সদস্যদের সই দিতে বাধ্য করা হয়। ২০১৯ সালে সরকারি বরাদ্দের বিনা মূল্যের ঘর বোনজামাই হাসান ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ফারুককে দেন চেয়ারম্যান। তাঁর বোনকে দিয়ে আরেকটি ঘরের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন তিনি। উপকারভোগী না হলেও নিজের অনুসারীদের বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও সোলার পাইয়ে দেন। তিনি ১৮ লাখ টাকার ইজিপিপি প্রকল্পের ৩০ শতাংশ এবং ৪০ দিনের ছয়টি ইজিপি প্রকল্প থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, ১০টি গভীর নলকূপ দিতে ও স্থাপন করতে চেয়ারম্যান রানা আট হাজার টাকার স্থলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। অতিরিক্ত টাকা তিনি নিজের পকেটে ভরেছেন। তাঁর যোগসাজশে চাচাতো ভাই ছাত্রলীগ নেতা হারুন মিঝি সই দিয়ে কয়েকজন দুস্থ নারীর চাল আত্মসাৎ করেন। পরে জানাজানি হলে ওই চাল ফেরত দিতে বাধ্য হন।

ইউপি সদস্যরা জানান, পরিষদের বরাদ্দ হওয়া প্রকল্প ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন চেয়ারম্যান। তাঁর বিরুদ্ধে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ যেকোনো কাজের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গত বছর কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা চান তিনি। ওই সময় তিনি ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ ও নুরুল আমিনকে মারধর করা হয়। এ নিয়ে রামগঞ্জ থানায় দুটি মামলাও চলছে।

ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ ফরিদ জানান, ইজিপির ৪০ দিনের প্রকল্পে যে শ্রমিকরা কাজ করেছেন তাঁদের কয়েকজন মারা গেছেন এবং কয়েকজন এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। তাঁদের সই জালিয়াতি করে চেয়ারম্যান প্রতিবছর তাঁদের নামের টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেন। এসব জালিয়াতির কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রানা বলেন, ‘গত ১৭ মাস আমি দেশের বাইরে যাইনি। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ইউপি সদস্যরা স্বার্থ উদ্ধারের জন্য করেছেন।’

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সফিউজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘চেয়ারম্যানের অনিয়মের বিষয়ে অনাস্থার অভিযোগপত্রটি পেয়েছি। এটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা