kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

ধুনট

পল্লী বিদ্যুতের মিটার চুরি করে চাঁদাবাজি!

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিটার চোরচক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বগুড়ার ধুনটের পল্লী বিদ্যুতের শিল্প মিটারের গ্রাহকরা। মিটার চুরি করে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। চাঁদা আদায়ের পর সেই মিটার আবার মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। চুরি করা মিটার ফেরত দিতে পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা করে আদায় করছে চক্রটি। এ নিয়ে শিল্প মিটারের গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস ও গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩০০ থ্রি ফেজ শিল্প মিটারের গ্রাহক আছে। চালকল, স মিল, ইটভাটা কিংবা গভীর নলকূপ—যেখানে বিদ্যুৎ বেশি লাগে সেখানে ব্যবহার করা হয় থ্রি ফেজ এই মিটার। অভিনব কায়দায় এসব মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। গত বুধবার রাতে দুটি চালকল ও একটি সেচযন্ত্র থেকে তিনটি মিটার চুরি করেছে।

এর মধ্যে উপজেলার পশ্চিম গুয়াডহরী গ্রামে গোলাম রব্বানীর দুই ভাই চালকল থেকে একটি, একই এলাকার বড়বিলা গ্রামের রবিউল হক সবুজের সরকার চালকল থেকে একটি ও একই মালিকের গভীর সেচযন্ত্র থেকে একটি মিটার চুরি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে একই কৌশলে আটটি শিল্প মিটার চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা।

জানা যায়, কাগজে ‘মিটার পাবে’ ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখে চুরি করা মিটারের স্থানে ওই কাগজ ফেলে রেখে যায় চোররা। এ অবস্থায় মিটারের মালিকরা ওই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তাঁদের কাছে বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা দাবি করে চোররা। অন্যথায় চুরির মিটার ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে দুই ভাই চালকলের মালিক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে থ্রি ফেজের একটি শিল্প মিটার পেতে খরচ হয় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। আমার চালকল প্রতিষ্ঠান থেকে একটি মিটার চুরি হয়েছে। আমার কাছে বিকাশ

নম্বরের মাধ্যমে সাত হাজার টাকা দাবি করেছে। কিন্তু টাকা না দিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

ধুনট পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মাহবুব জিয়া বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। মিটার চুরি গেলে পল্লী বিদ্যুতের কোনো দায়ভার নেই। পল্লী বিদ্যুৎ চলে একটি নীতিমালার ওপর। তবে আমরা গ্রাহককে দ্রুত সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। আর চুরির ঘটনা দেখার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।’

ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘একই বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে তিনটি মিটার চুরির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা