kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

১১ আসামির তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

রায়ে অসন্তুষ্ট বাদী পরিবার
রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে খুন : আদালতের পর্যবেক্ষণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১১ আসামির তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আশিকুর রহমান হত্যা মামলার আসামিদের আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চাঞ্চল্যকর আশিকুর রহমান সাম্য (১৪) হত্যা মামলায় ১১ আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আট আসামিকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

সব আসামির উপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ দীলিপ কুমার ভৌমিক গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রতিহিংসার জেরে পরিকল্পিতভাবে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সাম্যকে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখে।

প্রসঙ্গত, সাম্য গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের একমাত্র ছেলে। ঘটনার সময় সে গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শাহরিয়ার সরকার হৃদয়, রকিবুল হাসান সজীব ও মাহমুদুল হাসান জাকির। এ ছাড়া কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন, মাসুদ প্রধান সুজন, আল আমিন ইসলাম, রাবেয়া বেগম, আল আমিন, শিমুল মিয়া, রুনা বেগম ও জাহাঙ্গীর আলম।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সকালে গোবিন্দগঞ্জ শহরের বর্ধনকুঠি বটতলা মোড় এলাকায় কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে সেপটিক ট্যাংক থেকে সাম্যর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঈদের আগের রাতে কৌশলে সাম্যকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সেদিনই আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে সাম্যর বাবা তৎকালীন পৌর কাউন্সিলর জয়নালসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। গোবিন্দগঞ্জের নিম্ন আদালতে ৪০ দিন ও গাইবান্ধায় ১৭ দিন মামলার শুনানি এবং সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মামলাটিতে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি আদালতে সর্বশেষ যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল উল্লিখিত রায় দেন আদালত।

অন্যদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোবিন্দগঞ্জ ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ গতকাল আদালত চত্বরে এসে ভিড় করেন। এ সময় সেখানে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। তবে সাম্যর পরিবারসহ সহপাঠী ও গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রায়ে অসন্তোষ এবং হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাম্যর বাবা গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১১ আসামি পারস্পরিক সহযোগিতায় (আমার) ছেলেকে হত্যা করে। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তিতে আদালতে হত্যাকাণ্ডটি প্রমাণিত হয়। আমাদের প্রত্যাশা ছিল দোষীরা প্রত্যেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে। কিন্তু এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান তিনি। অন্যদিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ প্রধান বলেন, ‘সাম্য হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছিল গোবিন্দগঞ্জবাসী। দীর্ঘ প্রত্যাশিত এ হত্যা মামলার রায়ে আমরা হতাশ হয়েছি।’

রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম শফিক। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের দাবি, আসামিরা ন্যায়বিচার পায়নি। এ জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তাঁরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা