kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

মানবেতর জীবন তিন প্রতিবন্ধীর পরিবারে

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মানবেতর জীবন তিন প্রতিবন্ধীর পরিবারে

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রতিবন্ধী দেবদাস মজুমদারের স্ত্রীও শারীরিক প্রতিবন্ধী। ডান হাতটি অকেজো হওয়ায় স্ত্রী বাম হাত দিয়ে স্বামীকে প্রতিদিন ভাত খাওয়ান। ছবি : কালের কণ্ঠ

পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে তিনজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। ডান হাতটি অকেজো হওয়ায় স্ত্রী বাম হাত দিয়ে প্রতিদিন স্বামীকে খাওয়ান। এ কারণে সমাজের নানাজনে নানা কথা বলেন! যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় বিবাহিত মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে পারছেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে বেকারি কারখানায় কাজ করে দিনে দুই শ টাকা পান। মাসে ১০ থেকে ১২ দিন কাজ থাকে। পরিবারের তিন প্রতিবন্ধীর মধ্যে একজন মাসে সাত শ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান। তাঁদের থাকার ঘরটিও জরাজীর্ণ। স্থানীয় একটি এনজিওকর্মী তাঁদের জমানো টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার এই প্রতিবন্ধী পরিবার এমন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

চিতলমারীর চরবানিয়ারী ইউনিয়নের শ্যামপাড়া গ্রামের দাবা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত দেবদাস মজুমদার স্ত্রী, ছেলেসহ নিজে শারীরিক প্রতিবন্ধী। দেবদাস মজুমদার (৫০) জানান, আশার আলো ফাউন্ডেশন নামের একটি স্থানীয় এনজিওতে জমানো প্রায় ৬০ হাজার টাকা নিয়ে কর্মী বলাই উধাও হয়ে গেছেন। চিতলমারী শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজ সড়কে এনজিওটির অস্থায়ী কার্যালয় তালাবদ্ধ। সাইনবোর্ডটিও রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে। মাসখানেক ধরে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন দেবদাস।

দেবদাস আরো জানান, আট বছর বয়সে হাডুডু খেলতে গিয়ে তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্রমান্বয়ে তাঁর দুই পা এবং দুই হাত বাঁকা হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা স্থায়ী রূপ নেয়। ৩০ বছর বয়সে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা গ্রামের ননী বাওয়ালীর মেয়ে ফুলি রানীর সঙ্গে দেবদাসের বিয়ে হয়। জন্ম নেয় মেয়ে মল্লিকা ও ছেলে মহানন্দ। ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাঁর বয়স ১৮ বছর। তৃতীয় সন্তান ভূমিষ্ঠের সময় অপারেশনকালে স্ট্রোক করেন দেবদাসের স্ত্রী ফুলি রানী। ক্রমান্বয়ে তিনিও এখন প্রতিবন্ধী। অসহায় এই পরিবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ স্বাভাবিকভাবে বাঁচার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য চান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা