kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

হবিগঞ্জে শীতজনিত রোগ বেড়েছে

সদর হাসপাতালে এক মাসে ৭১ শিশুর মৃত্যু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হবিগঞ্জে তীব্র শীতে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ৭১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের অধিকাংশ নবজাতক। এ ছাড়া সন্তান প্রসব করতে গিয়ে শীতজনিত কারণে খিঁচুনিতে মারা গেছেন দুই প্রসূতি।

হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার শিশু ওয়ার্ডে নবজাতকসহ ২০ দিন বয়সী শিশু রিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন রবিবার মারা গেছে দুই নবজাতক। গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে সোমবার পর্যন্ত ৭১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

২৭ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং ১৪, ২২, ২৩ ও ৩০ ডিসেম্বর চারজন করে মারা গেছে। তবে ৩, ৭, ১৯ ও ২৪ ডিসেম্বর কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করার পর ঢাকা ও সিলেটে নেওয়ার পর আরো অন্তত ৫০ শিশুর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালটির সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনিয়া পারভীন জানান, শীতকালীন বিভিন্ন সমস্যার কারণে শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে। মারা যাওয়া শিশুর অধিকাংশই নবজাতক ও দরিদ্র পরিবারের।

এ ছাড়া প্রসববেদনা শুরু হলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের জিহাদ মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাঁকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সন্তান জন্ম দেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামিমা জানান, সোনিয়া অ্যাকলামশিয়া বা খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। শীতের জন্য এ রোগ হয়েছে।

লেবার ওয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে এখানে আরেক অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়েছে। এখন প্রায়ই অ্যাকলামশিয়া রোগী আসছে। শীতের জন্য ও যথাযথ যত্নের অভাবে এ রোগ হচ্ছে। এ জন্য নিজেদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি শীতে সাবধান থাকতে অন্তঃসত্ত্বাদের পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক মৌসুমী ভদ্র।

হাসপাতালটির আরেক চিকিৎসক দেবাশীস দাস জানান, শীতে শিশুদের বিভিন্ন রোগবালাই বেড়ে যায়। শিশুর যথাযথ যত্নের অভাব ও সচেতনতার অভাবেই এমনটি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা নারীরা নিজেদের যত্ন না নেওয়ায় ও ঠাণ্ডা লাগানোর কারণে নবজাতকের বেশি মৃত্যু হচ্ছে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে রোটা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে। যে কারণে শিশুরা অল্পতেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া নিউমোনিয়াও বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা