kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ধামরাইয়ে খাল খনন

মাটি বিক্রির লাখ লাখ টাকা চক্রের পকেটে

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি টাকায় খাল খননের কাজ চলছে। কিন্তু শর্ত ভেঙে খনন করা মাটি চুপিসারে বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানছে না ঠিকাদারের লোকজন। মাটি বিক্রির লাখ লাখ টাকা পকেটে পুরছে তারা।

কুল্লা ও রোয়াইল ইউনিয়নের একটি খাল খনন করার জন্য সরকার থেকে বরাদ্দ প্রায় সোয়া কোটি টাকা। খাল খনন করে যে মাটি উদ্বৃত্ত থাকবে তা কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান বা বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা করার নির্দেশনা রয়েছে উপজেলা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির। কিন্তু কমিটির কোনো সদস্য জানেনই না মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ খাল খনন করে মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিধি লঙ্ঘন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাবকন্ট্রাক্ট দিয়ে খাল খননের কাজ করাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খাল, নদী ও জলাশয় খননের আগে উপজেলা পানিসম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটি খনন করা মাটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খনন করা মাটি বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা অথবা কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করতে হবে। কিন্তু রোয়াইল খাল খননের এ সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঢাকা বিভাগ-২-এর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরের ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে রোয়াইল খাল খননকাজ শুরু করা হয়েছে। ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের নাপিত বাড়িল্লা গ্রামের গাজীখালী নদীর উৎস থেকে রোয়াইল ইউনিয়নের বহুতকুল গ্রামের ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ২৭ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে খননকাজ শেষ করার কথা। কিন্তু তিন ভাগের এক ভাগও শেষ হয়নি। কাজটির ঠিকাদার এস এম তাজুল ইসলাম। তবে জানা গেছে, প্রকৃত ঠিকাদার তাজুল ইসলাম খাল খননের কাজ করছেন না। তিনি সাবকন্ট্রাক্ট দিয়েছেন রোয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মণিকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পশ্চিম পাশে পাকা সড়ক ও পূর্ব পাশে ফসলি জমি। খালটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ভেকু দিয়ে খনন করা হচ্ছে। খনন করা মাটি খালের পাশে জমা করার পর তা ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, খনন করা মাটি স্থানীয়দের কাছে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন মণি। সেনাইল গ্রামের আনছের আলীর জমিতে মাটি ভরাট করা হয়েছে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে। এ ছাড়া একই গ্রামের শহীদুল্লাহর জমিতে মাটি ভরাট করা হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকার চুক্তিতে। এ রকম প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির কাছে মাটি বিক্রি করা হয়েছে।

রোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম সামসুদ্দিন মিন্টু বলেন, ‘খনন করা মাটি দিয়ে সড়কের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। বরং মাটি বিক্রি করে একটি প্রভাবশালী মহলের পকেট গরম হচ্ছে। রাতের আঁধারে বিক্রি করা হচ্ছে মাটি।’

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এস এম তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তো স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান মণি নামের এক ব্যক্তিকে সাবকন্ট্রাক্ট দিয়েছি। সে কী করছে না করছে সে ব্যাপারে কিছুই জানি না। এমনকি কোথায় খননকাজ চলছে তাও বলতে পারব না।’

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক বলেন, ‘উপজেলা পানিসম্পদ উন্নয়ন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে খনন করা মাটি সড়ক ও খালের পার বাঁধার কাজে ব্যবহার করা হবে। মাটি বিক্রি করা যাবে না। এ ব্যাপারে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, ‘মাটি বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা। তবে এ পর্যন্ত কোনো টাকা কোষাগারে জমা হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা