kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বিধ্বস্ত সেতু মেরামত হয়নি তিন বছরেও

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিধ্বস্ত সেতু মেরামত হয়নি তিন বছরেও

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কালিরবাজার সংযোগ রক্ষাকারী সেতুটি বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর মেরামত হয়নি। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিন বছর আগে গাইবান্ধা জেলা সদরের সঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলা সদরের যোগাযোগ রক্ষাকারী সড়কের বোয়ালী স্কুল বাজারসংলগ্ন এলাকায় থাকা সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। কিন্তু আজও সেতুটি পুন:নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ভারী যান চলাচল বন্ধ আছে। এ অবস্থায় সেখানে বাঁশ-কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছে এলাকাবাসী। কিন্তু সাঁকোটির অবস্থাও নড়বড়ে হয়ে গেছে।  

জানা যায়, ২০১৬ সালে বন্যার পানিতে সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। ফলে ট্রাকসহ ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবু সংশ্লিষ্টরা সেতুটি পুন:নির্মাণের কাজে হাত দেয়নি। ফলে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ-কাঠ দিয়ে সেখানে সাঁকো তৈরি করে এলাকাবাসী। এরপর থেকে তারা সাঁকোটিই ব্যবহার করছে। কিন্তু গত বন্যায় সাঁকোটিও পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়। এ অবস্থায় এলাকাবাসী আবারো চাঁদা তুলে বাঁশ-কাঠের সাঁকোনির্মাণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। রিকশা বা এ-জাতীয় হাল যান উঠলেই সাঁকোটি কেঁপে উঠে। অন্যদিকে ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় এলাকার উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল ও বাইরে থেকে বিভিন্ন মালামাল ১২ কিলোমিটার ঘুরে কঞ্চিপাড়া মদনেরপাড়া হয়ে আনা-নেওয়া করতে হয়।

সমাজকর্মী ভবতোষ রায় বলেন, ‘এ পথে রোগী নিয়ে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। গুরুতর কোনো রোগীকে জেলা সদরে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো যানবাহন চলাচল না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এ এলাকার মানুষকে।’

সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, সেতুটি পুন:নির্মাণে গত বছর প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠান তিনি। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

৩২ বছরেও সেতু পুনর্নির্মিত হয়নি

গাইবান্ধা সদরের গিদারী ইউনিয়নের কালীরবাজার এলাকায় মানস খালের ওপর থাকা সেতুটি বন্যার পানির তোড়ে ভেসে যায়। এর পর থেকে সংশ্লিষ্টরা দিই-দিচ্ছি করেও সেতুটি পুনর্নির্মাণ করে দেয়নি বলে অভিযোগ। এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘ ৩২ বছর। তাই বাধ্য হয়ে সেখানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে গ্রামবাসী। কিন্তু সাঁকোটির মাঝখানে বেশ কয়েকটি বাঁশের পাটাতন ভেঙে গেছে। ফলে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে সাঁকোটি। অথচ গিদারী ও ঘাগোয়া ইউনিয়নের অন্তত ১১ হাজার মানুষের ভরসা এ সাঁকো। ফলে ঝুঁকি নিয়েই সাঁকোটি ব্যবহার করছে তারা।

আক্ষেপের সুরে কালীরবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি এলেই তাঁদের কাছে সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানাই আমরা। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান। এভাবেই কেটেছে ৩২ বছর।’

গ্রামবাসী জানায়, ১৯৮৮ সালে বন্যার পানির তোড়ে মানস খালের ওপর থাকা সেতুটি ভেসে যায়। তবু সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সেতুটি পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হয়নি। তাই নিজেদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সেখানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে গ্রামবাসী। সাঁকোটি ভেঙে পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজেরাই মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করে।

যদিও গিদারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ ইদু মিয়ার দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই সাঁকোটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এ সাঁকোর ওপর দিয়ে গিদারী ও ঘাগোয়া ইউনিয়নের ১০ গ্রামের অন্তত ১১ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। শুকনো মৌসুমে সাঁকোর নিচ দিয়ে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষাকালে তা সম্ভব নয়। কিন্তু সাঁকোটি আবারও নড়বড়ে হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই সাঁকোটি ব্যবহার করছে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সাঁকোর জায়গায় ৪৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সম্প্রতি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে অনুমোদন পাওয়া যায়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা