kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

দুই মাস ধরে সরবরাহ নেই

নওগাঁয় বিসিজি ও হাম টিকার বাইরে ১০ হাজার শিশু

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁয় বিসিজি (যক্ষ্মা প্রতিরোধকারী) ও হামের টিকার চরম সংকট চলছে। দুই মাস ধরে এ দুটি টিকার সরবরাহ নেই। কবে নাগাদ এর সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তাও বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এতে জেলায় সদ্য জন্ম নেওয়া অন্তত ১০ হাজার শিশু টিকা বঞ্চিত হচ্ছে। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিশুদের মা-বাবারা। নওগাঁর মান্দা উপজেলার বনকুড়া গ্রামের আলতাফ-রোজি দম্পতির প্রথম সন্তান রেজওয়ান রোজদীদ আদন। বয়স ২৮ দিন। বিসিজি টিকা দেওয়ার জন্য চকবালু গ্রামের গফুর মণ্ডলের বাড়ির টিকাদান কেন্দ্রে কয়েক দিন ধরে ধরনা দিয়েও ছেলেকে টিকা দিতে পারেননি। গৃহবধূ রোজি বলেন, ‘টিকার সরবরাহ নেই বলে বারবার কেন্দ  থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার ছেলেকে নিয়ে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। সেখানেও একই কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, জন্মের পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে শিশুদের ছয়টি রোগের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, পোলিও, হাম ও যক্ষ্মা। এর মধ্যে যক্ষ্মা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টিকা। এ রোগের ফলে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ই বর্ণনাতীত কষ্ট, অক্ষমতাসহ বিভিন্ন কাজে অসমর্থ হয়ে পড়ে।

নওগাঁ জেলা ইপিআই কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস ধরে বিসিজি ও হামের টিকা সরবরাহ নেই। এ দুই মাসে জেলায় অন্তত ১০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। টিকার সরবরাহ না থাকায় শিশুদের এ দুটি টিকার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে জন্মের পর থেকে দুই বছর পর্যন্ত এ টিকা দেওয়া যাবে।

 

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, মান্দা উপজেলাকে শতভাগ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ইপিআই মডেল উপজেলা ঘোষণার যাবতীয় কাজ। এ অবস্থায় বিসিজি টিকার সরবরাহ না থাকায় একটু বেকাদায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বিসিজি শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টিকা। বিসিজি ও হাম ছাড়া এ উপজেলায় শিশুদের অন্য সব টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই ওই সব শিশুকে দুটি টিকার আওতায় আনা হবে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হক বলেন, ‘বিসিজি টিকা বাইরের দেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। এরপর ইপিআই ভবন থেকে সরবরাহ হয় সারা দেশে। ইপিআই ভবনে দফায় দফায় চাহিদা দেওয়া হলেও সরবরাহ মিলছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা