kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

কবর থেকে কঙ্কাল চুরি দিনাজপুরে আতঙ্ক

‘মানবদেহের কঙ্কাল সাধারণত মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে একটি কঙ্কাল ২৫-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চোরচক্র এসব কঙ্কাল চুরি করে সায়েন্টিফিক দোকানে বিক্রি করতে পারে।’

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনাজপুর সদর উপজেলায় কবরস্থান থেকে মানবদেহের কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দুটি কবরস্থান থেকে এক মাসের ব্যবধানে অর্ধশতাধিত কঙ্কাল চুরি হওয়ায় আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর। কঙ্কাল চুরির ঘটনা জানাজানি হলে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ প্রশাসন। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতেও তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের উত্তর শিবপুর সরকারি কবরস্থান থেকে গত কয়েক দিনে প্রায় ২২টি কঙ্কাল চুরি হয়েছে। একই ইউনিয়নের সদরপুর ডাঙ্গাপাড়া তুলা উন্নয়ন বোর্ড কবরস্থান থেকে গত কয়েক দিনে ২০টিরও বেশি কঙ্কাল চুরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান করে এসব কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরির সত্যতা মিলেছে।

কবরস্থানগুলোতে কোনো সীমানাপ্রাচীর ও নৈশপ্রহরী থাকে না। এ সুযোগে এমন ঘটনা ঘটছে বলে জানায় স্থানীয়রা। ছয় মাস আগে সুন্দরবন ইউনিয়নের উত্তর শিবপুর সরকারি কবরস্থানে পাশের দরবারপুর গ্রামের মৃত সোহরাব আলীকে দাফন করা হয়। কিন্তু গত বুধবার তাঁর পরিবারের লোকজন কবরস্থানে গিয়ে দেখেন কবর খোঁড়া, কবরে কঙ্কাল নেই।

মৃত সোহরাব আলীর ছেলে ফেরাজ আলী জানান, গত বুধবার তাঁর বাবার কবরের দিকে তাকাতেই হতবাক হন তিনি। কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। শুধু সোহরাব আলীর কবরের এই অবস্থা নয়, একই গ্রামের নাজমুল ইসলাম মারা যান চার মাস আগে। তাঁর কবরে গিয়েও দেখা যায় একই অবস্থা। কবর আছে, কিন্তু মরদেহের কোনো চিহ্ন বা কঙ্কাল নেই।

কবর থেকে কঙ্কাল চুরির বিষয়ে শিবপুর দরবারপাড়া ফোরকানিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা জারিফুল ইসলাম বলেন, ‘কবর থেকে কঙ্কাল চুরির বিষয়টি ন্যক্কারজনক। যারা এই কাজটি করেছে তারা ইসলামের শত্রু।’

সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার রায় বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে আমি প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেছি। কঙ্কাল চোরদের দ্রুত সন্ধান করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মানবদেহের কঙ্কাল সাধারণত মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে একটি কঙ্কাল ২৫-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চোরচক্র এসব কঙ্কাল চুরি করে সায়েন্টিফিক দোকানে বিক্রি করতে পারে।’

এ বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুজন সরকার বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কবরস্থান পরিদর্শন করেছে এবং কবর থেকে কঙ্কাল চুরির সত্যতা মিলেছে। কঙ্কাল চোরচক্রকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা