kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

হালখাতায় কৃষকের কান্না

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাওয়ার টিলার, সেচযন্ত্র, সার-কীটনাশকের দোকানসহ যশোরের গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারের মুদি দোকানেও হালখাতা হচ্ছে। এর মধ্যেই কৃষকের ক্রন্দন শোনা যাচ্ছে। কেননা যে আমন ধান বিক্রি করে কৃষকরা দায়দেনা শোধ করছেন, সেই ধানের দাম কমে গেছে। কারেন্ট পোকা আর অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে এমনিতেই ধানের ফলন কম হয়েছে। এরপর চলতি হালখাতা এখন কৃষকের জন্য যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যশোরে এবার এক লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ মণ ধান। বিঘাপ্রতি ছয় হাজার টাকা লিজ নিয়ে অনেকে আমন চাষ করেছেন। ধান চাষে লাভ দূরে থাক, বিঘাপ্রতি পাঁচ হাজার টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে ১৫ মণের বেশি ধান ফলেনি। কারেন্ট পোকা আর বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও এক বিঘা জমিতে আট থেকে ১০ মণ ধান ফলেছে। অথচ এক বিঘা জমি চাষে খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। তাতে বিঘাপ্রতি পাঁচ হাজার টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ আর চিকন ধান ৭০০ টাকা মণ। আমন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা কীটনাশক, সার, পানি, পাওয়ার টিলারে ক্ষেত চষার টাকা আদায়ের জন্য হালখাতা করছেন। পাশাপাশি গ্রামের বাজারের ইলেকট্রনিকস, রড-সিমেন্ট, এমনকি মুদি দোকানেও হালখাতা করা হচ্ছে।

সাধারণত আমন ধানে সেচ লাগে না; কিন্তু এবার বৃষ্টি না হওয়ায় অল্প পরিমাণে সেচ লেগেছে। খবর নিয়ে জানা যায়, যশোর সদরে মাহিদিয়া গ্রামে সেচযন্ত্রের মালিক মাহাবুব বিঘাপ্রতি ৯০০ টাকা নিয়েছেন। ভাতুড়িয়া গ্রামের সেচযন্ত্রের মালিক আবুল হালখাতা করে বিঘাপ্রতি ৬০০ টাকা নিয়েছেন।

ভাতুড়িয়া গ্রামের জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমার এক বিঘা জমিতে ১০ মণ গুটি স্বর্ণা ধান ফলেছে। কারেন্ট পোকা আর বৃষ্টি আমার সর্বনাশ করেছে। এ জন্য অনেক টাকা লোকসানও হয়েছে। এক বিঘা জমিতে ১২ হাজার টাকা খরচ হওয়ায় হালখাতার টাকা শোধ করতে পারিনি।’

মাহিদিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হালখাতার কারণে কৃষক একসঙ্গে ধান বিক্রি করছে। যে কারণে দাম কম। তবে ধীরে ধীরে ধানের দাম বাড়ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা