kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

পঞ্চগড়

শিক্ষকের সঙ্গে বাবার দ্বন্দ্ব অনিশ্চয়তায় শিশুর শিক্ষা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন বছরে নতুন বই হাতে পেয়ে বেশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গেই ক্লাস শুরু করেছে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের যোগীগছ এলাকার শিক্ষার্থী কামেলী আক্তার ঘরে বসে হতাশায় দিন পার করছে। নতুন বই তো দূরের কথা, স্কুলে ভর্তির ফরমটিই তাকে দেওয়া হয়নি।

তার বাবার সঙ্গে মামলা থাকায় ভর্তি ফরম দেননি শালবাহান দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর। এ ব্যাপারে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

কামেলী আক্তারের বাবা আব্দুল করিম বেন্টু পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শালবাহান দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফরের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেন। মামলাটি এখনো আদালতে চলমান। এরপর তাঁদের দ্বন্দ্ব আরো চরমে রূপ নেয়।

গত ১৫ নভেম্বর মেয়ের জন্য ভর্তির ফরম নিতে যান আব্দুল করিম বেন্টু। কিন্তু দ্বন্দ্ব থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর তাঁকে ফিরিয়ে দেন। বিভিন্ন মাধ্যমে অনুরোধ জানালেও কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বেন্টুর মেয়ে কামেলী মুনিগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পাস করে। ওই বছরের ২৭ নভেম্বর শালবাহান দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় কামেলী। কিন্তু পরীক্ষায় কৌশলে তার নাম অকৃতকার্যদের তালিকায় প্রকাশ করা হয়। পরে কয়েক দফায় তাকে ভর্তি করার জন্য অনুরোধ করলেও ভর্তি নেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর।

শিক্ষার্থী কামেলী আক্তার বলে, ‘আমি বাড়ির কাছের শালবাহান দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে চাই। কিন্তু আমাকে পড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।’ অভিযোগকারী আব্দুল করিম বেন্টু বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফরের দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে। তাই বলে আমার মেয়েকে ভর্তি করাবেন না—এটা কেমন কথা? গত বছর ভর্তি পরীক্ষায় তাকে ফেল করানো হয়েছে। গত একটি বছর তার অনেক কষ্টে কেটেছে। এবার ভর্তি করাতে না পারলে আমার মেয়ের জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর বলেন, ‘একটি মামলা চলমান থাকায় তাকে ভর্তি ফরম দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ৮০ জনের বেশি ছাত্রী ভর্তি করাব না। আর জিপিএ-২-এর নিচে যাদের আছে তাদের নেব না। তাই ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি ফরম দেওয়া হয়নি।’

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার বলেন, ‘জিপিএ-২-এর নিচে পাওয়া শিক্ষার্থীকে ভর্তি ফরম দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান নেই। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা