kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

আজও স্বীকৃতি পাননি তাঁরা

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) ও মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আজও স্বীকৃতি পাননি তাঁরা

স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি ময়মনসিংহের ত্রিশালের আউলটিয়া গ্রামের আহাম্মদ আলী ওরফে জবেদ।

আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে ২০০০ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেও মেলেনি স্বীকৃতি। মাঝেমধ্যে নিজের মনকে সান্ত্বনা দিতে মুক্তিযুদ্ধের এ গানটি শুনি—‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে, বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা, তোমাদের এই ঋণ কোনো দিন শোধ হবে না।”    

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী নওয়াব সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ শিক্ষক সদানন্দ দেবনাথের পরিবারও স্বীকৃতি পায়নি। অনেক দুঃখ-কষ্টের পর ২০১৫ সালে শহীদ সদানন্দের স্ত্রী খুকী বালা দেবনাথ মারা যান।

শহীদ সদানন্দের ছেলে কমল দেবনাথের স্ত্রী শিখা রানী দেবনাথ বলেন, ‘কিভাবে এত ভালো মানুষটাকে রাজাকাররা নৃশংসভাবে মেরে ফেলল। যাদের তিনি ভালোবাসতেন তারাই তাঁকে হত্যা করল। তাঁর লাশটাও এ পরিবারের সদস্যরা পেল না। আমি এ হত্যার বিচার ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি চাই।’ এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আল-শামসরা একাত্তরে নিরপরাধ-অসহায় বাঙালিদের ধরে ধরে হত্যা করেছে। কাজেই সদানন্দ স্যারের হত্যাকাণ্ডটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাজাকাররা আমাদের সবার প্রিয় সদানন্দ স্যারকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’

পিরোজপুর প্রতিনিধি

এখনো বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি পিরোজপুরের নাজিরপুরের লক্ষ্মী রানী। কিন্তু মৃত্যুর আগেই এ স্বীকৃতি পেতে চান তিনি।

প্রসঙ্গত, একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাত্র দেড় মাস আগে পাশের গাবতলা গ্রামের কৃষক লালু মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শাঁখারীকাঠি গ্রামের লক্ষ্মীর। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন লালু। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরে স্বাধীন দেশে স্বামীর ঘরে আর জায়গা হয়নি লক্ষ্মীর। ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করা শুরু করেন।

২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্মীকে নিয়ে কালের কণ্ঠে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরের বছরের জানুয়ারি মাসে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা’ সম্মাননাসহ এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। একই বছরের অক্টোবর মাসে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আর তা জেনে আগের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়েছিলেন লক্ষ্মী। পরে ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. শামিমুল হক ছিদ্দিকী প্রথমবারের মতো তাঁকে সম্মাননা দেওয়াসহ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। একই সঙ্গে লক্ষ্মীকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আবেদনের কোনো সাড়া মেলেনি। 

দেহে প্রাণ থাকতেই বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান লক্ষ্মী। পদে পদে অপমান-অপদস্থ হওয়া লক্ষ্মী আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমার তো কোনো অপরাধ ছিল না। স্বামীর সংসারে সুখের দিন আমার কপালে সইল না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা