kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

দিনমজুরের টাকায় কর্মকর্তার থাবা

শাহাদাত তিমির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনমজুরের টাকায় কর্মকর্তার থাবা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের মাসিক বেতন ৯ হাজার টাকা তুলে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা এস্টেট অফিসের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভোগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ করা কর্মচারী বাদেও এস্টেট অফিসের অধীনে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মচারীর প্রতি মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দৈনিক চুক্তিভিত্তিক বেতন দেওয়া হয়। এস্টেট অফিসের অধীনে ১৩৭ জন কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ, হল, দপ্তর এবং সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করে। বিভিন্ন বেতনে চুক্তিভিত্তিক ১৩৭ জনের মধ্যে ১৩৩ জনের বিল করা হয়। ১৩৩ জন কর্মচারীর মোট বিল হয় আট লাখ ৩৮ হাজার ৪৫৬ টাকা। যাদের মধ্যে অনেকের মাসিক বেতন বাবদ উত্তোলন করা হয় ৯ হাজার টাকা। তবে ওই কর্মচারীদের অভিযোগ তাঁদের মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বুধবার ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহার কাছে বিষয়টি জানান তাঁরা। দপ্তরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজলী রানী দাস, পুষ্প রানী দাস ও অরচোনা রানী দাস জানান, দৈনিক চুক্তিভিত্তিক হিসেবে মাসে তাঁদের মোট সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

পরে এস্টেট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় কাজলী রানী দাস, পুষ্প রানী দাস, অরচোনা রানীসহ কয়েকজনের নভেম্বরের মোট বেতন ৯ হাজার টাকা পাস করা হয়েছে। দপ্তর থেকে ৯ হাজার টাকা পাস করা হলেও তাঁদের দেওয়া হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। সাড়ে তিন হাজার টাকা করে কম দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন বলেন, ‘দুর্নীতির হোতা সাইফুল ইসলামকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

এস্টেট অফিস প্রধান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ কিছু কাজে অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হয়। এর জন্য আলাদা বেতন দেওয়া হয় না। যার ফলে তালিকাভুক্ত কর্মচারীদের বেতন থেকে কিছু টাকা কেটে রেখে বাকিদের দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা বলেন, ‘অভিযোগগুলো শুনেছি। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছি। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। উপাচার্য দেশের বাইরে আছেন। এলেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা