kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ

প্রকল্প কমিটি হয়নি একটিও

সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর প্রতিনিধি   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকল্প কমিটি হয়নি একটিও

সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) চূড়ান্ত করা হয়নি। ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে পিআইসি চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও গত শুক্রবার পর্যন্ত তা করা যায়নি। ফলে এবারও বাঁধের কাজে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছোট-বড় দেড় শতাধিক হাওরে প্রায় এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৬ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত, সংস্কার ও নির্মাণ করা হবে। এগুলো নির্মাণ করতে ১১ উপজেলায় প্রায় ৭০০ পিআইসি গঠন করা হবে। মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে ৬৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। গত বছর প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বেশির ভাগ বাঁধই অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। গত শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৪৫০টি পিআইসি প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সেগুলো যথাযথ স্থানে দাখিল করা হয়নি এবং একটিও অনুমোদন পায়নি। এ কারণে সোমবার জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।

এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করেন, পাউবোর প্রস্তাবনায় কাজের পরিমাণ কাগজে-কলমে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। এতে অধিক বরাদ্দে অল্প কাজ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কৃষকরা জানান, বাঁধ নির্মাণ নীতিমালায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কোনো কর্তৃত্ব না থাকলেও তাঁদের প্রতিনিধির মাধ্যমেই পিআইসিতে সদস্য তালিকাভুক্ত করছেন অনুমোদনকারীরা। যে কারণে প্রকৃত কৃষক বাদ পড়ার আশঙ্কা আছে। এমপিদের মাধ্যমে পিআইসিতে লোক নিয়োগ দেওয়া হলে কাজে ফাঁকিবাজির বিরাট সুযোগ থাকে। স্থানীয়ভাবে পিআইসি অনুমোদন দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাউবো উপসহকারী প্রকৌশলী। তাঁদের যৌথ স্বাক্ষরে বিলও ছাড় দেওয়া হয়।

কৃষকরা আরো জানান, পিআইসি ও প্রাক্কলন সম্পন্ন ও অনুমোদন না হওয়ায় এবার ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর সম্ভাবনা নেই। কাজ বিলম্বে শুরু হলে যথাসময়ে তা শেষ করার সুযোগ থাকে না। বরাবর ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে না পারায় দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। সময় বাড়লেও কাজ টেকসই হয় না।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৭ ডিসেম্বর হাওরের বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি প্রকল্প কমিটিও হয়নি।

জগন্নাথপুর উপজেলা পাউবো আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা উপপ্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, ‘এবার প্রথমবারের মতো গণশুনানির মাধ্যমে প্রকল্প কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ তিন কোটি টাকা পাওয়া গেছে।’

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, যথা সময়ের মধ্যে হাওরের বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করা হবে।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ও হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কমিটির সদস্য সচিব মো. সবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জরিপ শেষ। এখন প্রাক্কলনের কাজ চলছে। বাজেট বাড়তে পারে। কারণ বন্যার কারণে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রাথমিক জরিপে কোনো অনিয়ম হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা