kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নীলফামারীতে বিদ্যালয়ের পাশে কারখানা

ঝাঁজালো ধুলায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝাঁজালো ধুলায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

নীলফামারী জেলা সদরের পলাশবাড়ী বাজারে সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নীলফামারী জেলা সদরের পলাশবাড়ী বাজারে বিদ্যালয় ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। ওই কারখানা থেকে নির্গত তামাকের ঝাঁজালো ধুলায় ৪০০ শিশু শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

নিয়মের তোয়াক্কা না করে পলাশবাড়ী বাজারে দুই বছর আগে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কারখানাটি স্থাপন করেছেন এলাকার দীপু সরকার। সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন নামের একটি বিদ্যালয় ঘেঁষে এটি স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত তামাকের ঝাঁজালো ধুলায় বিদ্যালয়ে টিকতে পারছে না শিশু শিক্ষার্থীরা। এতে লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ওই শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নূপুর রায় বলে, ‘বাতাসের সঙ্গে তামাকের ধুলা আসে। ওই ধুলায় আমাদের কাশি হয়, বমি হয়। ক্লাসে বসে থাকতে পারি না। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈতি সরকার বলে, ‘তামাকের ধুলায় আমাদের খুব কষ্ট হয়। ক্লাস করতে পারি না। স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার রুচি থাকে না।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষক পূরবী মোহন্ত বলেন, ‘ওই কারখানা থেকে নির্গত ধুলায় শিশুদের পাশপাশি আমাদেরও সমস্যা হয়। ঝাঁজে হাঁচি-কাশি আসে।’

অন্য শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তামাক প্রক্রিয়াকরণের কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে দুই বছর আগে। সেটি স্থাপনের পর থেকে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। অসুবিধার কথা মালিককে একাধিকবার বলার পর কথা দিয়েছিলেন স্কুল চলাকালে কল চালাবেন না। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথাই রাখেননি। এখন দিন-রাত সমানতালে কল চালাচ্ছেন।’

ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ চঞ্চল চ্যাটার্জি বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে ৪০০ শিক্ষার্থী আছে। ২০০৯ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে আসছে। দুই বছর ধরে ওই তামাক প্রক্রিয়াকরণ কারখানার ঝাঁজালো ধুলায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।’

গত বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের অবস্থান। সেটি ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কারখানা।

কারখানা দেখভালের দায়িত্বে থাকা হরলাল সরকার বলেন, ‘ওই কলে সারা বছর একটি বিড়ি ও একটি গুল কম্পানির জন্য তামাক প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। পাশাপাশি চালকল ও হলুদ গুঁড়া করার কল রয়েছে সেখানে। ওই কলের চাতালে ভুট্টা শুকানো হয়। বর্তমানে কলে ১৫ জনের মতো শ্রমিক কাজ করেন।’

মালিক দীপু সরকারের কাকা হরলাল সরকার আরো বলেন, ‘এটাতে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আমরা তামাকের পাতা ভাঙছি না। তামাকের ডাঁটি (গাছ) কাটছি। তবে ডাঁটিতে খুব বেশি গন্ধ নেই। এর পরও ধুলা বন্ধ করার জন্য অনেক প্রটেকশন দিয়েছি।’ পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েছেন কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি নেওয়া হয়নি, এর প্রয়োজনও নেই।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা