kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

একটি নালার অভাব

নওগাঁয় ৭১০ হেক্টর জমি অনাবাদি

নওগাঁ প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফসল লাগিয়ে নিশ্চয়তা নেই। হয়তো সময় হলো ফসল তোলার, ঠিক তখনই অসময়ে বৃষ্টি এসে ডুবে গেল ক্ষেতের ফসল। তখন অসহায় দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা ছাড়া কিছু করার থাকে না কৃষকের। এভাবে ফসলি জমি ধীরে ধীরে বিলে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমেও পানি জমে থাকে। অথচ পানি নিষ্কাশনের জন্য শুধু একটি ড্রেন হলে চাষযোগ্য হবে প্রায় ৭১০ হেক্টর জমি। তাতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। একই সঙ্গে তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটবে। এই দাবি করে আসছেন নওগাঁ সদরের তিলকপুর ইউনিয়নের কৃষকরা। এই ড্রেনের সুবিধা পাবে পাশের জেলা জয়পুরহাটের অনেক আবাদি জমিও।

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ও স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদরের তিলকপুর ইউনিয়নের মালঞ্চি, কয়া ও ধোপাইকুড়ি মৌজার মালঞ্চি বিলে প্রায় ৭১০ হেক্টর জমি রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ওই বিলের ফসলি জমি বছরে প্রায় আট মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। শুধু জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিলে বোরো ধান রোপণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এপ্রিল-মে মাসে অতিবৃষ্টি হলে বোরো ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়। ফলে বিলটির প্রায় এক হাজার ৯৫০টি কৃষক পরিবার তাদের ৭১০ হেক্টর জমিতে রোপণ করা ফসল ঘরে তুলতে ব্যর্থ হয়। প্রায় প্রতি বছর এভাবেই চলছে।

এরই মধ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (নওগাঁ জোন) প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে ওই কর্মসূচি প্রণয়ন করে। বিল থেকে বৃষ্টিপাতের পর পানি নিষ্কাশন হলে বেশির ভাগ জমিতে বোরো-রবি ফসলের পাশাপাশি আমন ও আউশ ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। তাতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

তিলকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শফিউর রহমান বলেন, স্থানীয় কৃষকের এই দাবি পূরণ হলে এই এলাকার কৃষক পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। তা ছাড়া বিএমডিএর একটি ক্যানেল আছে যা এই বিল থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরত্বে এসে শেষ হয়েছে। ওই ক্যানেলের সঙ্গে মালঞ্চি বিলের সংযোগ স্থাপন করা গেলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে।

তিলকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, মালঞ্চি বিলের পানি নিষ্কাশন হলে তাতে শুধু এলাকার জন্য ভালো তা নয়, দেশের জন্যও ভালো।

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নওগাঁ সদর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মালঞ্চি বিলের পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কর্মসূচি আকারে এরই মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা