kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

১০ ভেন্টিলেটরই নষ্ট বন্ধ আইসিইউ

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

বরিশাল অফিস   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১০ ভেন্টিলেটরই নষ্ট বন্ধ আইসিইউ

শেবাচিমে ২০১৭ সালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হয়। ভেন্টিলেশনের জন্য ১০টি যন্ত্র স্থাপন করা হয়। একে একে সব যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ায় আইসিইউ বন্ধ হয়ে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে দক্ষিণাঞ্চলের মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য ২০১৭ সালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হয়। তখন রোগীদের কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রাশ্বাস সচল রাখতে ভেন্টিলেশনের জন্য ১০টি যন্ত্র স্থাপন করা হয়। কিন্তু গত আড়াই বছরে একে একে সব যন্ত্র কার্যকারিতা হারালে বর্তমানে শেবাচিম হাপাতালের আইসিইউ বন্ধ হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই বছর ধরে একে একে আটটি ভেন্টিলেটর কার্যক্ষমতা হারায়। বাকি দুটি যন্ত্রের মধ্যে গত নভেম্বরে একটি এবং বাকি একমাত্র যন্ত্রটি গত মঙ্গলবার কার্যক্ষমতা হারায়। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা ডা. মারুফ হোসেন নয়ন আইসিউ সেবা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের পূর্ব দিকের নতুন দ্বিতল ভবনের নিচতলায় ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হয়। ইউনিটটি চালুর সময় থেকেই রোগীদের জন্য ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি বড় আকারের ভেন্টিলেটর মেশিন, তিনটি ছোট আকারের ভেন্টিলেটর ও মনিটর সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত দুই বছরে একে একে ৯টি ভেন্টিলেটর কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্বয়ংসম্পূর্ণ আইসিইউর জন্য ইলেকট্রিক ভেন্টিলেশন মেশিন, উন্নতমানের মনিটর (যেখানে হার্টবিট, ব্লাড প্রেশার, ফুসফুস-লিভারের কার্যকারিতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ) প্রয়োজন। তেমনি এজিবি মেশিন, ইলেকট্রোলাইট পর্যবেক্ষণ মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, পোর্টেবল আলট্রাসনোগ্রাম, পোর্টেবল ভেন্টিলেটর মেশিনেরও প্রয়োজনীতা রয়েছে। পাশাপাশি আইসিইউ রুম অথবা পাশেই ডায়ালিসিস ফ্যাসিলিটেট রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং মেশিন, সিটি স্ক্যান, ইকোকার্ডিওগ্রাফি মেশিন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এসবের কিছুই নেই এ বিভাগে।

তা ছাড়া ওয়ার্ডটিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবক-সেবিকা ছাড়া চিকিৎসক নিয়েও রয়েছে সংকট। ওয়ার্ডটিতে কমপক্ষে ১০ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন দেখা দিলেও রয়েছেন একজন চিকিৎসক। অধ্যাপক থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসারের পদগুলো রয়েছে শূন্য।

জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর আইসিইউর নতুন নার্সিং ইনচার্জ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই দিন তিনি ১০টির মধ্যে দুটি ভেন্টিলেটর সচল অবস্থায় পান। এক মাসের মধ্যে আরেকটি ভেন্টিলেটর নষ্ট হয়ে যায়। সচল বাকি যন্ত্রটি গত মঙ্গলবার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি শুরু থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গত দুই মাসে ভেন্টিলেটর সেবা প্রয়োজন—এমন ছয়-সাতজন রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক ডা. নাজমুল হুদা বলেন, ডা. নয়নের অ্যাজমা ছিল। এ জন্য তাঁকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তরের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা করার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠির মাধ্যমে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ এনে আমাদের বরাদ্দও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিকল ভেন্টিলেটর মেশিন সচল করা কিংবা নতুন করে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চষ্টা করব। তিনি বরাদ্দের ব্যবস্থা করলে আইসিইউ আবার সচল হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা