kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ক্রসিং আছে, নেই গেট-কিপার

মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশনের দুই পাশে গেট না থাকায় চলাচল ঝুঁকিতে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বোনারপাড়া-সান্তাহার রেলপথে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের স্টেশনের দুই পাশের সড়কে ক্রসিংয়ে কোনো গেট নেই। ফলে এই সড়ক দুটি দিয়ে পথচারী ও যানবাহনের রেললাইন পারাপার এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। ‘এই রেলক্রসিং-এ কোনো গেটম্যান নাই, যাত্রীসাধারণকে নিজ দায়িত্বে পারাপার করতে হবে’—কর্তৃপক্ষ এই সাবধান বাণী লিখে দায়িত্ব পালন শেষ করেছে।

মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশনের মধ্যে দুই দিকের দুই হোম সিগন্যালের ধার ঘেঁষে রেললাইন অতিক্রম করা সড়ক দুটি দিয়ে সব সময় ছোট-বড় যানবাহন ও হাজার হাজার পথচারী যাতায়াত করে। অথচ এই দুটি সড়কে কোনো রেলগেট স্থাপন করা হয়নি এবং গেটম্যানও নিয়োগ করা হয়নি।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্টেশনের পূর্ব দিকে বাঙ্গালী নদীর কারণে পাশের সাঘাটা উপজেলার কচুয়া, কামালেরপাড়া, জুমারবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন মহিমাগঞ্জে হেঁটে যাতায়াত করত। তখন কম সংখ্যক লোকজন এ পথ দুটি ব্যবহার করত। কিন্তু গত এক দশকে এখানকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ঘটে। স্টেশনের পূর্ব দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙ্গালী নদীর ওপর সেতু নির্মিত হয়েছে। ফলে গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় এ পথে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আর এ দুটি সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা দুটি পাকা হওয়ায় রেলগেট দুটিরও গুরুত্ব বেড়ে গেছে। লালমনিরহাট-বোনারপাড়া-সান্তাহার পথে এখন প্রতিদিন ১৬টি ট্রেন যাতায়াত করে।

স্থানীয় সমাজসেবী মনজুর হাবীব জানান, সবচেয়ে ভীতিকর হচ্ছে মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশনটি ইংরেজি ‘ইউ’ আকৃতির মাঝামাঝি জায়গায় হওয়ায় একেবারে কাছে না আসা পর্যন্ত কোনো ট্রেন দেখতে পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলগেট দুটি অতিক্রম করতে হয় পথচারী ও যানবাহনগুলোকে। তিনি বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষ দায়সারাভাবে একটি ফলকে সাবধান বাণী লিখলেও সেই ফলক দুটিও ময়লায় ঢেকে গেছে। উত্তরাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে এই লেভেলক্রসিং দুটিতে জরুরি ভিত্তিতে গেট স্থাপন ও কিপার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া নেই।’

ঝুঁকির কথা স্বীকার করে মহিমাগঞ্জ স্টেশনের মাস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা