kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধুনট হাসপাতালে চিকিৎসা বর্জ্যের বিপজ্জনক দূষণ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য অব্যবস্থাপনা বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এ কারণে হেপাটাইটিস বি, সিসহ বিভিন্ন জটিল রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটি মোটেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ডে কিংবা জরুরি বিভাগে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের ন্যূনতম কোনো আয়োজন চোখে পড়েনি। তবে নিচতলায় জরুরি বিভাগের কক্ষে একটি লাল ঝুড়ি ছাড়া আর কোথাও বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও দেখা যায়নি। অথচ আলাদা ঢাকনাযুক্ত পাত্রে চিকিৎসা বর্জ্য সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। উন্মুক্ত ঝুড়ির ভেতর বর্জ্য ফেলা হলেও ব্যবহৃত সুচগুলো সিরিঞ্জ থেকে আলাদা করা হয়নি।

ফলে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ বর্জ্যের কারণে পরিবেশের উপাদান মাটি, পানি ও বায়ু বিপজ্জনকভাবে দূষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ২০০৮ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে এসংক্রান্ত বিধিমালা করা হলেও তা কার্যকর নয়। সেই বিধিমালায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্জ্য সংরক্ষণ এবং তা পুড়িয়ে নষ্ট করার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই।

প্রতিদিন বহির্বিভাগের প্রধান ফটকের সামনে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে চিকিৎসা বর্জ্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এসব চিকিৎসা বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্জ্যের তালিকায় রয়েছে ব্যবহৃত সুচ, সিরিঞ্জ, রক্ত ও পুঁজযুক্ত তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, টিউমার, ওষুধের শিশি, রক্তের ব্যাগ, ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র ফেলে রাখা বর্জ্যের ভাগাড়ে কুকুরের উপদ্রবের কারণে চারদিকে প্রকট হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধযুক্ত সেই বর্জ্যের স্তূপের পাশ দিয়েই নাকে-মুখে রুমাল চেপে যাতায়াত করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্যের চেয়েও ক্ষতিকর। সিরিঞ্জ ও স্যালাইনের ব্যাগ হেপাটাইটিস বি, সিসহ কিছু রোগের জীবাণু ছড়ায়। রক্ত, মূত্রসহ বিভিন্ন তরল বর্জ্য নর্দমায় ফেলে দিলেই তা দূষণমুক্ত হয়ে যায় না। নর্দমার ভেজা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে টাইফয়েড ও আমাশয়ের মতো পানিবাহিত রোগের জীবাণু বহুদিন বেঁচে থাকে। অথচ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তেমন গুরুত্বই পাচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ধুনট উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল হক মিন্টু বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্জ্য একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ করছে, অন্যদিকে রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে। মানবদেহ সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন অনেকের সর্বনাশের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হাছিব বলেন, প্রতিদিনের চিকিৎসা বর্জ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি মাসে একবার এসব বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা হয়। তবে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারিভাবে আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা