kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আগে মালামাল কেনা পরে দরপত্র

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে নষ্ট এলইডি সাইন

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগে মালামাল কেনা পরে দরপত্র

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে আগে মালামাল কেনা হয়েছে। মাস দুই আগে এ মালামাল সরবরাহের পর স্টেশনে সেসব ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন ওই মালামালের টেন্ডারপ্রক্রিয়া হবে। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার এ ঘটনার ব্যাপারে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রয়োজন হওয়ায় টেন্ডারের আগেই মালামাল সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজের আস্থাভাজন এ ঠিকাদারকে দিয়ে আগেই কাজগুলো করিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেন ইচ্ছামতো বিল উত্তোলন করা যায়। এটি করতে গিয়ে স্টেশনে কিছু ভিআইপি চেয়ারও অপ্রয়োজনে সরবরাহ করা হয়েছে। জায়গার অভাবে বেশ কিছু চেয়ার স্টেশনের যাত্রীদের অপেক্ষারত কক্ষের বাইরেও রাখা হয়েছে। অপব্যবহারের ফলে এরই মধ্যে চেয়ারগুলো নষ্ট হতে বসেছে। অথচ বছরখানেক আগে এ স্টেশনেই চেয়ার সরবরাহের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা লুটপাটে মেতে উঠেছিলেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা। কিন্তু বছর না যেতেই আবার চেয়ার সরবরাহের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ লুটে নেওয়ার মচ্ছব চলছে।

প্রসঙ্গত, বছরখানেক আগে এ স্টেশনে ১৭-১৮ হাজার টাকার স্টিলের চেয়ার সরবরাহের নামে ৪০-৪৫ হাজার টাকা করে বিল উত্তোলন করা হয়। আর ২৫-৩০ হাজার টাকার সোফা সেট সরবরাহ করে বিল উত্তোলন করা হয় ৮০-৮৫ হাজার টাকা করে। রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ বাবু এ ফার্নিচারগুলো সরবরাহ করেছিলেন। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সরঞ্জাম কর্মকর্তার দপ্তরের মাধ্যমে এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডার মেথড) টেন্ডারের মাধ্যমে ওই ফার্নিচারগুলো সরবরাহ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লোপাট করা হয়।

রেলওয়ে সূত্র মতে, এবার এলটিএম বা টেন্ডার না করেই রাজশাহী স্টেশনে বগিচিহ্নিত লাইট, ফার্নিচার ও অভ্যর্থনার জন্য এলইডি লাইট সরবরাহ করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি বগিচিহ্নিত লাইট নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু যেসব ফার্নিচার এরই মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে, তার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। ফলে সেগুলোও অপ্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন এসব দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লোপাটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেলওয়ের উন্নয়নকাজের জন্য টেন্ডার হয় তিনটি দপ্তর থেকে। এর মধ্যে একটি দপ্তর হলো পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর এবং প্রধান টেলিকমিউনিকেশনের দপ্তরের মাধ্যমে। রেললাইনের বাইরে যেসব কেনাকাটা হয়, সেগুলো সাধারণত প্রধান সরঞ্জাম কর্মকর্তার দপ্তরের মাধ্যমে করা হয়। বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় মালামালের চাহিদা পাওয়ার পরই সরঞ্জাম শাখা টেন্ডার, কোটেশন অথবা এলটিএমের মাধ্যমে টেন্ডার করে সেসব মাল ঠিকাদারকে সরবরাহের জন্য কার্যাদেশ দিয়ে থাকে। এরপর ঠিকাদার সেই মালগুলো সরবরাহ করে সরঞ্জাম শাখা থেকে বিল উত্তোলন করেন। কিন্তু এবার টেন্ডারের কোনো প্রক্রিয়া না করে আগেই পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে মালামাল সরবরাহ করে নিয়েছেন প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ। এর মধ্যে বেশির ভাগ মালই নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই স্টেশনের বগিচিহ্নিত এলইডি লাইটগুলোর বেশ কয়টি নষ্ট হয়ে গেছে।

জানতে চাইলে স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, ‘ঠিকাদার কাজগুলো এখনো বুঝিয়ে দেননি। তবে বগিচিহ্নিত যেসব ডিজিটাল লাইট সরবরাহ করা হয়েছে, সেগুলোর কিছু জ্বলছে আবার কিছু এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। ঠিকাদার আমাদের কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছেন।’

এদিকে সম্প্রতি টেন্ডার ছাড়াই মালগুলো সরবরাহ কে বা কারা করেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘টেন্ডার ছাড়াই কিভাবে মালামাল সরবরাহ করা হলো বা স্টেশনে লাগল সেটি জানি না। এটি তো হয় না।’

তবে মালামাল সরবরাহের নির্দেশদাতা প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘আলমগীর হোসেন নামের একজন ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করেছেন। তবে টেন্ডার করা হয়নি। প্রয়োজন হওয়ায় টেন্ডারের আগেই মালগুলো স্টেশনে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এগুলো স্টেশনে লাগানো বা ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন টেন্ডারপ্রক্রিয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিকাদার যেসব মাল সরবরাহ করেছেন, সে অনুযায়ী তিনি বিল দাখিল করবেন। এরপর সেভাবে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা