kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঝিকরগাছা

বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা (যশোর)   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

যশোরের ঝিকরগাছার রাধানগরে ভায়না নদী দখল করে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে ভায়না (স্থানীয় নাম) নদী দখল করে বাঁধ দিয়ে ঘের বানিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদীর আধাকিলোমিটারের মধ্যে তিনটি বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের করায় অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে নদীটির। এখন প্রচার করা হচ্ছে, নদীর জায়গা বিক্রি করা হয়েছে। তাই এলাকাবাসী নদী উন্মুক্তের দাবিতে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদনসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

রাধানগর গ্রামের নদীপারের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান (৭০) জানান, ২০০১ সালের শেষের দিকে রাজাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ নদীর রাধানগর মৌজায় জিয়ার খাল ব্রিজের মুখ থেকে শার্শার কন্দবপুর পর্যন্ত আধাকিলোমিটারে তিনটি বাঁধ দিয়ে দখল করে মাচ চাষ শুরু করেন। এর কিছুদিন পর আব্দুর রশিদ দাবি করেন, ১৯৯০ সালে মাঠ জরিপে রাধানগর মৌজায় এসএ ৫৪৮ নম্বর দাগে নদীর ৯ একর ৩৫ শতাংশ জমি উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের কোরবান আলী, শ্রীরামকাটি গ্রামের নূর মোহাম্মদ মণ্ডল ও দিদার বক্স মণ্ডল এবং কামারপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফের নামে রেকর্ড হয়ে গেছে। কোরবান আলী ও আব্দুর রউফ মেম্বার আব্দুর রশিদের আত্মীয়। আর নূর মোহাম্মদ মোড়ল ও দিদার বক্স মোড়ল ছিলেন আব্দুর রশিদের বাড়ির কাজের লোক। একপর্যায়ে মেম্বার আব্দুর রশিদ বলে বেড়ান, ওঁরা চারজন তাঁর কাছে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নদী উন্মুক্ত হয়ে যায়। এরপর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পর্যায়ক্রমে নদীটি দখলে নিয়ে মাচ চাষ করে আসছে।

বছরখানেক আগে মেম্বার আব্দুর রশিদ মারা যান। এখন তাঁর জামাতা লোকমান হোসেন ও ছেলে হাসানুর রহমান হাসান নদীর জমি বিক্রি করেছেন বলে প্রচার করছেন। এতে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। গত ২৮ অক্টোবর নদী পুনরুদ্ধারের দাবিতে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে এলাকার তিন শতাধিক নারী-পুরুষের স্বাক্ষরিত এক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ২৮ নভেম্বর একই দাবিতে এলাকাবাসী নদীর পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নেসার উদ্দীন আল আজাদ বলেন, ‘ইউনিয়ন ভূমি অফিসের খাসজমির রেজিস্টারে ১৯৯২ সালে উল্লেখ করা আছে, রাধানগর মৌজায় এসএ ৫৪৮ দাগের ১০ একর ১০ শতাংশ জমি নদীশ্রেণি হওয়ায় বন্দোবস্ত দেওয়া গেল না।’ তিনি আরো জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে নদীকে খাসজমি দেখিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বরাদ্দ নেওয়া হতে পারে। তবে তা দিয়ে শেষ রক্ষা হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে নদীর জমির মালিকানা দাবি করে দখলকারী হিসেবে অভিযুক্ত লোকমান হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে সংবাদকর্মীর পরিচয় দিলে ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সাধন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘নদী কখনো বন্দোবস্ত হিসেবে ইজারা দেওয়ায় সুযোগ নেই। এ সম্পর্কে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা