kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

ভৈরব থানা

দুই মাদক কারবারিকে লাখ টাকায় মুক্তি

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই মাদক কারবারিকে লাখ টাকায় মুক্তি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিশেষ অভিযানে আটক চিহ্নিত দুই মাদক বিক্রেতাকে লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শহর ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও ভৈরব শহর ফাঁড়ি ইনচার্জের এমন কাণ্ডে স্থানীয়ভাবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পঞ্চবটি পুকুরপার এলাকার মাদকের আড়তদার ও একাধিক মাদক মামলার আসামি মাইগ্যা আলমের বাড়িতে ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সেলিম, এটিএসআই আরিফসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালায়। এ সময় মাদক কারবারি আলম, সুমি, ফারুক, আলাদিন, আলিফ ও রোকনকে আটক করা হয়। তবে সুমি ও আলমের কাছে কোনো মাদক পায়নি পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দরদাম চলতে থাকে।

সুমি ও আলমকে ছেড়ে দেবে এবং আটক অন্য চারজনকে ৩৪ ধারায় মামলা দেওয়ার শর্তে এক লাখ টাকায় রাজি হয় পুলিশ। পরে সুমি ও আলমকে ছেড়ে দিয়ে আটক চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। সুমি ও আলমের কাছ থেকে রাতেই ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ আটক চারজনকে ৩৪ ধারায় চালান না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে সাজা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এমন খবর পেয়ে সুমি ও আলম ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।

মাদক কারবারি সুমি বলেন, ‘আলম ও আমাকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার ও গ্রেপ্তার হওয়া বাকি চারজনকে ৩৪ ধারায় চালান দিতে আরো ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। রাতেই ৫০ হাজার টাকা নেয় পুলিশ। কিন্তু এখন কেন ওই চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেবে?’

অন্য মাদক কারবারি মাইগ্যা আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো মাদক পায়নি। তার পরও আমরা যেহেতু আগে মাদক ব্যবসা করতাম, তাই আমাদের চালান দেবে বলে হুমকি দেয় পুলিশ। পরে সুমি ও আমাকে ছেড়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা নেয়। তা ছাড়া বাকি চারজনকে ৩৪ ধারায় চালান দিতে আরো ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা।’

এ ব্যাপারে ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সেলিম কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ ছাড়া ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না জানিয়ে উেকাচ দিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিন জানান, টাকা নিয়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে শহর ফাঁড়ির ওসি মো. সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা ফারজানা বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি আটক করেছে। তাই এ বিষয়ে পুলিশই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা