kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ময়মনসিংহের বাতাসও ক্ষতিকর

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ    

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের বাতাসও ক্ষতিকর

সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক একাধিক জরিপে দেশের যেসব নগরের বাতাসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে তার মধ্যে ময়মনসিংহের নামও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তথ্য নিয়েও বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও সড়ক নির্মাণকাজের কারণে মূলত বায়ুদূষণ হয়ে থাকে। তবে ময়মনসিংহ শহরে সড়কের ধুলাবালি ও নির্মাণকাজের কারণেই বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন।

এদিকে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়েছে তারা। তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

শহরের বিশিষ্টজনরা বলেছেন, বায়ুদূষণের বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহের কারোরই তেমন সচেতনতা নেই। সমস্যাটি সমাধানে করণীয় বিষয়েও তেমন উদ্যোগ নেই।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ ডিসেম্বর দেশের মোট ১২টি নগরের মাঝে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা। এগুলোতে বায়ুর মানের সূচক ছিল ২০০-এর ওপরে। সূচক ২০০-এর ওপরে থাকলে সে অবস্থাকে ‘ভেরি আনহেলথি’ বলা হয়ে থাকে। এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশু ও বৃদ্ধদের ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়। ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়।

সাম্প্রতিক তথ্যগুলোতে দেখা যায়, ময়মনসিংহের বাতাসও জনস্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বায়ুর মানের সূচক ছিল ১৮১, যা উদ্বেগজনক। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ময়মনসিংহে গড়ে ১৬০-এর কাছাকাছি রয়েছে বায়ুর মান।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, ঢাকার বাতাস দূষিত হওয়ার জন্য ইটভাটাকে বেশি দায়ী করা হয়। তবে ময়মনসিংহের বাতাস বেশি দূষিত হওয়ার জন্য অনেকেই নির্মাণকাজ এবং সড়কের ধুলাবালিকে দায়ী করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, নির্মাণকাজের জন্য বাসার সামনের সড়কে বালি ফেলে রাখা হয়। এগুলো আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া পুরনো ভবন ভাঙা ও নতুন ভবনের জন্য ইট থেকে মেশিন দিয়ে সুরকি তৈরিও শহরের বাতাসকে দূষিত করছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শহরের সানকীপাড়া সড়কটির। ধুলা আর যানবাহনের কালো ধোঁয়ার কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি শহরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড়।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক শংকর সাহা বলেন, ‘বায়ুদূষণ নিয়ে আমরা সচেতন নই। কিন্তু এখন আর বিষয়টি নিয়ে অবহেলার সুযোগ নেই। সবাইকেই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে হবে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বায়ুদূষণ হলে ফুসফুসের রোগ দেখা দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হয়। এ ছাড়া আরো বেশ কিছু জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, ‘বায়ুদূষণের মাত্রাটি ময়মনসিংহে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ সমস্যা সমাধানে তাঁরা ইটভাটার দিকে নজর দিয়েছেন।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচ কে দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরাও চিন্তিত। সড়কের ধুলার সমস্যাটির সমাধানের জন্য সম্প্রতি সড়কের ঝাড়ুদারদের বালতি দিয়েছেন তাঁরা। যেন ধুলাবালি বালতিতে উঠিয়ে রাখা হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কে পানি ছিটাচ্ছেন তাঁরা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা