kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঁধে জলাবদ্ধ ৩০ বিল ধান চাষে শঙ্কিত কৃষক

কেশবপুর

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের কেশবপুরে হরিহর নদসহ বিভিন্ন খাল খননে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হয়ে উপজেলার ৩০টি বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে কৃষকরা বীজতলা তৈরিতে পড়েছেন বিপাকে। বিল থেকে পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। নদ-নদীতে দেওয়া বাঁধ অপসারণ করে বিলের পানি নিষ্কাশনের দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা সভা ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিলের পানি সরানোর দাবিতেও আবেদন জনিয়েছেন।

কেশবপুর উপজেলায় ছোট বড় ৩০টি বিল রয়েছে। এর মধ্যে বিল বলধালী, গরালিয়া, বুড়ুলি, পাঁজিয়া, হদ, কৃষ্ণনগর, মাগুরাডাঙ্গা, ব্যাসডাঙ্গা, রাজনগর, কাটাখালী, কালীচরণপুর, বেতীখোলা, নারায়ণপুর, বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, পাথরঘাটা, গড়ভাঙ্গা, বাকাবর্শী, হাবাসপোল, তেঘরী, আটন্ডা, কাবিলপুর, হাড়িয়াঘোপ, দেউলী, পরচক্রা, খতিয়াখালীসহ প্রায় ৩০টি বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে ২৬ বিল পানি নিষ্কাশন কমিটি নেতারা দাবি করেছেন। এসব বিলের পানি হরিহর নদ, বুড়িভদ্রা ও আপারভদ্রা নদী দিয়ে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড হরিহর নদসহ বিভিন্ন খাল খননের কারণে বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আর এ কারণে বিপাকে রয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার মূলগ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, প্রতিবার গ্রামের নওপুকুর বিলে বীজতলা তৈরি করা হয়। এবার বিলে পানি জমে থাকায় বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, বিল বলধালীতে বোরো আবাদের আগে তাঁরা বীজতলা তৈরি করেন। সেই জমিতে এখনো হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। এখনই বীজতলা তৈরি করা না গেলে বোরো আবাদে পড়তে হবে বিপাকে।

উপজেলার ২৬ বিল পানি নিষ্কাশন কমিটির আহ্বায়ক পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘বিলের পানি নিষ্কাশিত না হলে কৃষকরা বোরো আবাদ থেকে বঞ্চিত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে কৃষকদের পড়তে হবে দৈন্যতায়।’ কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, ‘বিকল্প পন্থায় বিলের পানি সরিয়ে দেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে বোরো আবাদে কৃষকদের কোনো অসুবিধা না হয়।’

উপজেলা নাগরিক সমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড হরিহর নদ খনন দীর্ঘমেয়াদি করায় পানি নিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি হয়ে উপজেলার বিভিন্ন বিলে পানি আটকে রয়েছে। পানি সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন কৃষকরা। বিলগুলো থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে পানি সরানোর দাবিতে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, ‘চলতি বছর ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়। বিলে পানি থাকায় অনেকে বীজতলা করতে পারছেন না। পাশাপাশি বিল থেকে পানি নিষ্কাশিত না হলে বীজতলা তৈরিসহ বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে। গত মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় বোরো আবাদের লক্ষ্যে বিলের পানি সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি আছাদুল্লাহ বলেন, ‘হরিহর নদের কাশিমপুর নামক স্থানে নদ খননের বেশ কয়েকটি বাঁধ এরই মধ্যে কেটে দেওয়া হয়েছে। কৃষকের ধান উৎপাদনের স্বার্থে দ্রুত বুড়ুলিসহ বাকি বাঁধগুলো কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা