kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সমস্যার নাম ‘পুকুর খনন’

তাড়াশে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্থানীয় প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে যত্রতত্র পুকুর খননের কারণে একদিকে ফসলি জমি কমছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। সেই জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর উপজেলায় সরিষার আবাদ নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। সরিষার আবাদ না হওয়ায় কোটি টাকার মধু আহরণও সম্ভব হয়নি। অথচ গত বছর এ উপজেলায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। বাড়তি ফসল হিসেবে সাত হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সরিষা পেয়েছিলেন কৃষকরা। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে পুকুর খননের দিকে ঝুঁকে পড়েন কৃষকরা। নিচু জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় পুকুর খননের প্রতিযোগিতা চলছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন বেআইনি হলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিবছর শত শত পুকুর খনন করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, গত এক দশকে এ উপজেলায় পুকুর খননের ফলে প্রায় ৫০০ হেক্টর কৃষিজমি কমেছে। যা বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাড়াশে ৫১৫টি পুকুর খনন করা হয়। তাতে ৩১৫ হেক্টর আবাদি জমি কমে। এখনো উপজেলায় শতাধিক পুকুর খনন চলছে। প্রশাসন এসব দেখেও যেন দেখছে না।

সূত্র মতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত জারিকারক মো. মোসলেম উদ্দিন, দপ্তরি সানোয়ার হোসেন ও গাড়িচালক আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের রুহুল আমিন ও সদর তহশিলের পিয়ন মো. রাকিব, পুলিশের এএসআই আল আমিন, স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক এসব পুকুরের মালিকদের কাছে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে তাঁরা পুকুর খনন করতে পারেন, নইলে অভিযান চালিয়ে ধরে এনে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

সম্প্রতি উপজেলার চকজয়কৃষ্ণপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মো. আজিজুল হক বলেন, ‘এরা আমার কাছে টাকা দাবি করেছিল। না দেওয়ায় আমার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। অথচ প্রতিদিন অসংখ্য পুকুর খনন করা হচ্ছে।’

সূত্র মতে, উপজেলার পুকুর খননকারীচক্রের মূল হোতা আড়ঙ্গাইল গ্রামের জান মাহমুদ, শোলাপাড়া গ্রামের মুরশিদ ও আসাদ, সলঙ্গার নান্নু, কাউরাইলের আব্দুস সাত্তার, তাড়াশ পৌর এলাকার আমিন ও আব্দুল জলিল প্রতিটি পুকুর খননের জন্য জমির মালিকদের কাছ থেকে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেন। তাঁরাই সাধারণত প্রশাসন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে পুকুর খনন করে দেন।

জানতে চাইলে তাড়াশ থানার ওসি মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘আমি একাই তিনটি পদের দায়িত্ব পালন করছি। যে কারণে অনেক সময় সব বিষয় দেখা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া আমার জনবলের সংকট রয়েছে। তবে যে অভিযোগ আপনাদের মাধ্যমে পেয়েছি, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ বলেন, চলনবিল অঞ্চলে পুকুর খননের আলাদা নীতিমালা জরুরি। নিচু জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা পুকুর খনন করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রশাসন বাধা দিয়েও বিশেষ কিছু করতে পারছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা