kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কৃষকের জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প

গুরুদাসপুর প্রশাসন বলছে, বন্দোবস্তের জায়গায় হচ্ছে প্রকল্প

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষকের জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নে কৃষিজমিতে বালু ভরাট করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ভুট্টুর বিরুদ্ধে বৃচাপিলা গ্রামের স্থানীয় ৯ কৃষক পরিবারের ১৬ বিঘা জমি দখলে নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প করার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জমিতে থাকা ৩০০ কলাগাছ কেটে ও পাঁচ বিঘা জমির পাকা ধান কাটতে না দিয়ে তার ওপর বালি ফেলে দখলে নিচ্ছেন। মামলা-হামলার হুমকিতে প্রতিবাদও করতে পারছেন না কৃষকরা।

শেষ সম্বল চাষাবাদের জমিটুকু হারানোর ফলে এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের মাঝে চলছে বোবা কান্না। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বলছে, এটা এক নম্বর খাস খতিয়ানের জায়গা। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ভুক্তভোগী কৃষক ও জমির মালিকরা অভিযোগ করে জানান, উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের বৃচাপিলা গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দীন, মেজবান হোসেন, আব্দুল জলিল, নূরুল ইসলাম, নান্নু মিয়া, কাজিম উদ্দীন, আব্দুর রশীদ ও আব্দুর রাজ্জাক ১৯৭৪ সালে স্থানীয় দিনু রায়, মিনু রায়, প্রাণবন্ধু ও সুদেন রায়ের কাছ থেকে ১৬ বিঘা জমি কিনে চাষাবাদ করে আসছিলেন। খাজনা খারিজও করেছেন তাঁরা।

হঠাৎ জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার চাপ দেন চেয়ারম্যান। কৃষকরা জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আশ্রয়ণ প্রকল্প করার নামে তাঁদের জমিতে বালু ভরাট শুরু করেন চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে পাইপ লাগিয়ে বালি ফেলা হয়েছে। কয়েকজন কৃষককে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন চেয়ারম্যান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকের লাগানো পাকা ধানের জমিতে ফসলের ওপর ড্রেজার পাইপ দিয়ে ৮-১০ ফুট উঁচু করে বালু ফেলা হচ্ছে।

বৃচাপিলা গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দীন বলেন, ‘আমার ৯২ শতাংশ ফসলি জমিতে জোর করে বালু ভরাট করা হচ্ছে। বাধা দিলে চেয়ারম্যানের লোকেরা হুমকি দেয়।’

প্রতিবন্ধী কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের পাঁচ বিঘা জমিতে থাকা পাকা ধান কাটতে দেওয়া হয়নি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কথা বলছে না।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি।

চেয়ারম্যান ভুট্টু বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ জমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। তারা অন্যদের কাছে ইজারা দেওয়ায় তাদের বন্দোবস্ত বাতিল হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে এখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গুরুদাসপুরের এসি ল্যান্ড নাহিদ হাসান খান, ইউএনও তমাল হোসেন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ বলেন, জায়গাটি সরকারের। ২০১৩ সালে বরাদ্দ বাতিল হওয়ায় সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু হয়েছে। এখানে দখলের কিছু নেই।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘কৃষকদের ফসলি জমি অবৈধভাবে দখল করার ক্ষমতা কারো নেই। তবে এটা খাসজমি। এখানে সরকার ২০০ পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করতে যাচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা