kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নওগাঁয় খাদ্যগুদাম নির্মাণে নিম্নমান

নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে মরিচা ধরা রড, কম দেওয়া হচ্ছে সিমেন্ট

মহাদেবপুর-বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সরস্বতীপুরে নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। নিয়ম অনুযায়ী কার্যস্থলে নির্মাণকাজের বিবরণসংবলিত সাইনবোর্ড দৃশ্যমান থাকার কথা থাকলেও তা টানানো হয়নি। ফলে এ কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরস্বতীপুরে ‘মহাদেবপুর উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপের’ দান করা এক একর ২৭ শতাংশ জমিতে এক হাজার টন খাদ্যশস্য ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এক লাখ পাঁচ হাজার টনবিশিষ্ট খাদ্যগুদাম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ কাজে দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ঝিনাইদহের মেসার্স লিটন ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ গুদাম নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম এ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণকাজের মেয়াদ চলতি ডিসেম্বর মাসে শেষ হলেও এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে শতকরা ৬০ ভাগ।

তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, নিম্নমানের ইট, পাথর ও মরিচা ধরা রড দিয়ে নির্মাণকাজ চলছে। খাদ্যগুদামের অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ৩ নম্বর ও নম্বরবিহীন ইট। পা দিয়ে একটু জোরে পাড়া দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে তা। নিম্নমান ও নম্বরবিহীন এসব ইট ব্যবহার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো কাজ করলেও দেখার কেউ নেই। নির্মাণকাজ তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-প্রকৌশলীকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, শিডিউলে উন্নত মানের ইট, পাথর ও রড দিয়ে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সিন্ডিকেট করে নিম্নমানের ইট ও পাথর ব্যবহার করছে। তা ছাড়া ঠিকমতো রড দিচ্ছে না। পরিমাণে কম সিমেন্ট ব্যবহার করছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে শিডিউল অনুসারে উপকরণ দিয়ে যেন খাদ্যগুদাম ও অভ্যন্তরীণ রাস্তার কাজ করা হয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

মেসার্স লিটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবু তালেব বলেন, ‘মহাদেবপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইট সরবরাহ করার দয়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি ইট সরবরাহ না করায় আমরা বিপদে পড়েছি। ভালো ইট না পাওয়ায় কিছু নিম্নমানের ইটও আনা হয়েছে।’

জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জি এম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ‘গুদামে যখন যে কাজ হয়, আমাদের জানালে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি। নিম্নমানের ইটগুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সব ইট সরিয়ে নেবে বলে কথা দিয়েছে।’

এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী আব্দুল আলিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘খাদ্যগুদামের অভ্যন্তরীণ রাস্তার কাজের জন্য নিম্নমানের ইট আনার বিষয়টি জানতে পেরে নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজে অনিয়ম হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্মাণ সামগ্রীসহ সার্বিক বিষয়ের গুণগত মান ঠিক রাখতে সুষ্ঠু তদারকি করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা