kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বেগম রোকেয়া দিবস কাল

স্মৃতিকেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ হয়নি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্মৃতিকেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ হয়নি

রংপুরের পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটায় তৈরি স্মৃতিকেন্দ্রটি দেড় যুগেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ফলে দিবস উদযাপন ছাড়া এই কেন্দ্র আর কিছু করতে পারছে না।

সম্প্রতি পায়রাবন্দ ঘুরে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে স্মৃতিকেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রে রয়েছে একটি অফিস ভবন, সর্বাধুনিক গেস্টহাউস, মিলনায়তন, ডরমিটরি, গবেষণাকক্ষ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, গ্রন্থাগার, আবাসিক সুবিধাসহ বিশাল অবকাঠামো। কেন্দ্রের ভেতর তৈরি করা হয় বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য। ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। কিন্তু যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে স্মৃতিকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয় তা পূরণ হয়নি। গ্রন্থাগার থাকলেও সেখানে যুগোপযোগী বই ও সাময়িকী নেই। মিলনায়তনের অবস্থা করুন। নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যন্ত্রপাতি থাকলেও কার্যক্রম না থাকায় ধুলা-ময়লা জমে তা নষ্ট হওয়ার পথে। নিয়মিত তদারকির অভাবে প্রায় সময় স্মৃতিকেন্দ্রটি থাকে অন্ধকারে। এ অবস্থায় দূর-দূরান্ত থেকে রোকেয়ার জন্মভিটা দেখতে এসে দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। এদিকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানা আক্ষেপ ও কষ্টের কথাও শোনা গেছে।

রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের অদূরে বেগম রোকেয়ার ছোট ভাই মছিহুজ্জামান সাবেরের মেয়ে রনজিনা সাবেরের (৬৫) বাড়ি। তিনি স্বামী এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন। আক্ষেপ নিয়ে রনজিনা বলেন, ‘ডিসেম্বর এলেই রোকেয়াকে নিয়ে শুরু হয় নানা আয়োজন। অন্য সময় কারো খবর থাকে না। আমাদের দাবি, বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ ভারতের কলকাতার সোদপুর থেকে তাঁর পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করা হোক।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোর্দমুরাদপুর গ্রামে ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রোকেয়ার জন্ম। তাঁর বাবার নাম জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের। মা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। ‘অবরোধবাসিনী’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘অর্ধাঙ্গী’, ‘মতিচুর’, ‘চাষার দুক্ষু’ লিখে তিনি সাহিত্যে সমাদৃত হন। নারী জাগরণের এই পথিকৃৎ ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মারা গেলে তাঁকে সোদপুরে সমাহিত করা হয়। বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও রোকেয়া গবেষক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, ‘যে স্বপ্ন নিয়ে এই স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন করা হয় এত দিনেও তার পূর্নাঙ্গ রূপ পায়নি।’

স্মৃতিকেন্দ্রের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘সার্বিক সংস্কার করতে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

তিন দিনের কর্মসূচি

কাল সোমবার থেকে পায়রাবন্দে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হবে। এরই মধ্যে দিবসটি উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। কর্মসূচির প্রথম দিনে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, রোকেয়া বইমেলা উদ্বোধন, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান, বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা