kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বালিয়ামারী বর্ডার হাট

প্রতি হাটে কাস্টমস কর্তার চা খরচ ৫০ হাজার টাকা!

কুদ্দুস বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম (আঞ্চলিক)   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতি হাটে কাস্টমস কর্তার চা খরচ ৫০ হাজার টাকা!

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী বর্ডার হাটে পণ্যসামগ্রী ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে চা খরচের কথা বলে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে কাস্টমস কর্মকর্তা আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রতি হাটে তিনি চা খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা নেন বলে জানা গেছে। গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ আছে, কাস্টমস কর্মকর্তা পণ্যসামগ্রী প্রবেশের সময় বস্তাপ্রতি দুই হাজার টাকা নেন। হাট থেকে পণ্যসামগ্রী বের করার সময়ও চা খরচের নামে একই হারে টাকা আদায় করেন। তা ছাড়া আর্থিক সুবিধা নিয়ে নির্ধারিত পণ্যের চেয়ে বেশি পণ্য হাটে প্রবেশের সুযোগ করে দেন তিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাটের একজন বিক্রেতা বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তার অত্যাচারে হাটের সবাই অতিষ্ঠ। প্রতি হাটেই তাঁকে অবৈধ সুবিধা দিতে হচ্ছে। না দিলে নানা অজুহাত দাঁড় করান।

একই ধরনের অভিযোগ করেন হাটের ২৫ জন বিক্রেতার সবাই। অভিযোগে আরো জানা গেছে, প্রতি হাটে ৩০০ ক্রেতা পণ্যসামগ্রী কিনতে পারেন। এসব ক্রেতার হাতে পণ্য কেনার স্লিপ বা অনুমতিপত্র দিয়ে থাকেন কাস্টমস কর্মকর্তা। এ সুযোগে তিনি টাকার বিনিময়ে ৩০০ জনের বদলে ৩৫০ জন ক্রেতাকে স্লিপ দেন।

আসাদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে হাটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় শুকনো সুপারি। আর ভারত থেকে আসছে মজা সুপারি। একজন বিক্রেতা হাটে সর্বোচ্চ ১০ বস্তা শুকনো সুপারি তুলতে পারেন। আর একজন ক্রেতা হাট থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বস্তা ভারতীয় সুপারি কিনতে পারেন। হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই নিয়মের মধ্যে থাকলেও কাস্টমস কর্মকর্তাকে চা খরচের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। এর বাইরে ওই কাস্টমস কর্মকর্তা অনিয়ম করে নির্ধারতি পণ্যসামগ্রী হাটে প্রবেশ ও বের করে এনেও অবৈধ অর্থ কামাচ্ছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওই সব অভিযোগ মাঝে মাঝে আমিও পাই; কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকার কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত কাস্টমস কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, ‘প্রতি হাটে চা খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা আমি নিই—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কাজের ক্ষেত্রে আমি কোনো অনিয়ম করি না। কেউ হয়তো শত্রুতা করে এসব কথা বলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা