kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজশাহীতে প্রশাসনের দোহাই দিয়ে চাঁদাবাজি

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীর ১২৫ ইটভাটায় প্রশাসনের দোহাই দিয়ে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। প্রতিটি ইটভাটা থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছে একটি মহল। রাজশাহী ইটভাটা মালিক সমিতির নামে উত্তোলন করা হচ্ছে এ চাঁদা। তবে চাঁদা প্রদানকারী ইটভাটা মালিকদের দেওয়া হচ্ছে না কোনো রসিদ। এরই মধ্যে অর্ধকোটিরও বেশি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এ বছর।

ইটভাটা মালিকদের অভিযোগ, কোনো প্রমাণপত্র ছাড়াই প্রতিটি ভাটা থেকে অর্ধলাখ করে টাকা তোলা হয়েছে। এর আগের বছরগুলোতে ৩২ হাজার টাকা করে তোলা হলেও এবার তা এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ৫০-৬০ জন ব্যবসায়ী চাঁদা দিয়েছেন। আর এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রাজশাহী ইটভাটা মালিকদের মধ্যে।

এদিকে এ টাকা কী কাজে ব্যবহার করা হবে, তা জানেন না ভাটা মালিকরা। তবে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তর, থানা-পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করার জন্য টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইটভাটা মালিক সমিতির নেতারা।

ইটভাটা মালিকরা অভিযোগে আরো জানান, যাঁরা চাঁদা দিতে চান না তাঁদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি এবারও নির্ধারিত টাকা না দিলে প্রশাসন নানাভাবে হয়রানি করবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভয়ভীতির কারণে ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন ইটভাটা মালিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইটভাটা মালিক বলেন, চাঁদা তোলার সময় মালিক সমিতি থেকে বলা হয়েছে ডিসি অফিসের এলআর ফান্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় পুলিশকে এ টাকা দেওয়া হবে।

ভাটা মালিকরা আরো বলেন, স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা দেন তাঁরা। এর বাইরেও মালিক সমিতিকে তাঁদের টাকা দিতে হচ্ছে। ফলে ভাটা চালিয়ে লাভের মুখ দেখাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে জানতে চাইলে রাজশাহী ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি সাদরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে কোনো চাঁদা নেওয়া হয় না। স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দিবস পালনসহ নানা উদ্যোগের জন্য চাঁদা দিতে হয়, এটা সঠিক। সে ক্ষেত্রে ইটভাটা মালিকরা নিজেরাও কখনো কখনো চাঁদা দিয়ে আসেন। আবার মাঝেমধ্যে সমিতি থেকেও দিতে হয়। আর এ কারণেই মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। তবে একসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের চাঁদা নেওয়ার ঘটনা আমার জানা নেই। যদি হয়ে থাকে তাহলে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা