kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

কোটিপতি পিয়ন

তিন স্ত্রীর জন্য করেছেন আলাদা বিলাসবহুল বাড়ি

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোটিপতি পিয়ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন ইয়াছিন মিয়া বিলাসবহুল তিনটি বাড়িসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বিয়েও করেছেন তিনটি। প্রত্যেক স্ত্রীর জন্যই রয়েছে আলাদা আলাদা বাড়ি। জানা গেছে, অফিসের কাজে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করে স্বল্প সময়ে আর্থিকভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসে পোস্টিং হলেও ক্ষমতাবলে দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত আছেন ইয়াছিন মিয়া। জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দি ইউপির আতুয়াকান্দি গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে তিনি। বসবাস করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে।

পিয়ন ইয়াছিনের বর্তমান বেতন ২৮ হাজার ৭৭৫ টাকা। এই বেতনে তিনি কিভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে চলছে গবেষণা। এ ছাড়া তাঁর একাধিক বিয়ে নিয়েও চলছে মুখরোচক আলোচনা। 

সরেজমিনে ঘুরে ইয়াছিনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পাইকপাড়ায় দুটি ও ভাদুঘরে একটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়ায় তৃষা লজ নামের অ্যাপার্টমেন্টে রয়েছে তাঁর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। পাইকপাড়ার বাড়ি ও ফুলবাড়িয়া ফ্ল্যাটে তিনি যথাক্রমে দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগম ও তৃতীয় স্ত্রী মুকসুরা বেগমকে নিয়ে থাকতেন। ভাদুঘরের বাড়িতে থাকতেন প্রথম স্ত্রী সাজেদা বেগমকে নিয়ে।

সম্প্রতি সাবরেজিস্ট্রি অফিসের (নিরীক্ষণ) অডিট চলার সময় কোটি টাকার ঘাপলা বেরিয়ে আসার পর আলোচনায় আসে পিয়ন (অফিস সহায়ক) ইয়াছিন মিয়ার নাম। গত ২৭ নভেম্বর সরকারি বিভিন্ন ফির চালান ঠিক আছে কি না সেটি যাচাই শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাবরেজিস্ট্রারকে ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন অডিট কর্মকর্তা মিথেন্দ্রনাথ শিকদার। পরদিন ইয়াছিনকে সঙ্গে নিয়ে সাবরেজিস্ট্রার মোস্তাফিজুর রহমান সোনালী ব্যাংকে যান। সেখানে গিয়ে কয়েকটি চালান মিলিয়ে দেখেন টাকা জমা হয়নি।

তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, হয়তো সিল-স্বাক্ষর জাল করে এসব টাকা জমা দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অডিট অফিসারকে জানানো হয়। এরই মধ্যে ইয়াছিন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর সদর থানায় জিডি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম পাইকপাড়ার লজেন্স ফ্যাক্টরি এলাকায় পাশাপাশি দুটি ছয়তলা ভবনের মালিক ইয়াছিন মিয়া। এর একটি তাঁর ভায়রা সুমন মিয়ার সঙ্গে যৌথ মালিকানায় করেছেন। নিজের মালিকানার অন্য বাড়িতে দ্বিতীয় তলার পুরোটায় দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমাকে নিয়ে থাকতেন তিনি। ফুলবাড়িয়া এলাকায় তৃষা লজের ছয়তলার দক্ষিণ-পশ্চিমের ফ্ল্যাটটি সম্প্রতি কিনেছেন ইয়াছিন। এখানে তিনি তৃতীয় স্ত্রী মুকসুরাকে নিয়ে থাকতেন।

পারিবারিক সূত্র ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে ইয়াছিন মিয়া সাজেদা বেগমকে বিয়ে করেন। পৌর এলাকার ভাদুঘরে ৪ শতাংশ জায়গার ওপর তিনতলা বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন তিনি। বছর দশেক পর আকলিমা নামের এক বিধবাকে বিয়ে করেন ইয়াছিন। এর বছর পাঁচেক পর ভাদুঘর এলাকার প্রবাসী কামাল মিয়ার স্ত্রী মুকসুরার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান। একপর্যায়ে তাঁকেও বিয়ে করেন।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা হলে ইয়াছিনের ভায়রা সুমন বলেন, ‘পাইকপাড়ায় আমি থাকি। এখানে ইয়াছিন ভাইয়ের কোনো বাড়ি নেই।’

ইয়াছিনের প্রথম স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার বাবার বাড়ি থেকে আনা ও স্বামীর টাকা দিয়ে ভাদুঘরের বাড়িটি করেছি। আমার স্বামী আরো একাধিক বাড়ি করেছে বলে শুনেছি। তার একাধিক বিয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আমাকে অত্যাচার করা হতো। বেশ কিছুদিন ধরে সে আমার সঙ্গে যোগাযোগও করে না।’

সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইয়াছিন ঠিক কত টাকার ঘাপলা করেছেন, সে বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। তাই এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলা যাবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) আলমগীর হোসেন গতকাল বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, ইয়াছিনের অবস্থান সম্পর্কে অচিরেই আমরা নিশ্চিত হতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা