kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভাঙ্গুড়ায় কর্মসৃজন প্রকল্প

কাগজে-কলমে শ্রমিক হাজিরা শতভাগ

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাবনার ভাঙ্গুড়ার প্রত্যন্ত দিলপাশার ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মাসের শেষ দিকে কাজ শুরু হলেও প্রকল্প দেখভালের জন্য এখনো ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ইউনিয়নের বিভিন্ন কাঁচা সড়কে নামমাত্র মেরামত কাজ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, কাগজ-কলমে শতভাগ শ্রমিক হাজিরা দেখাচ্ছেন তাঁরা। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পান না। একসময় চরমপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, দিলপাশার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম প্রতিবছরই বন্যাকবলিত হয়। এতে গ্রামগুলোর কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এসব ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য এ বছর কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় (প্রথম পর্যায়) ইউনিয়নে ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। গত ২৩ নভেম্বর প্রকল্পগুলোর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, শুরুর পর থেকে একাধিক ওয়ার্ডে মাঝেমধ্যেই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। এ ছাড়া চলমান অন্য প্রকল্পেও বরাদ্দের চেয়ে কম শ্রমিক নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, দিলপাশার রেল স্টেশনের পশ্চিম পাড় থেকে নুরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা মেরামতের জন্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হলেও সেখানে কোনো শ্রমিক নেই। অথচ এ প্রকল্পে ২৮ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা ছিল। তবে প্রকল্প শুরুর পর তিন দিন রাস্তার কিছু কিছু স্থানে সামান্য পরিমাণ মাটি ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের এক শ্রমিক দাবি করেন, কয়েক দিন ১০ জন করে কাজ করার পর বর্তমানে কাজ বন্ধ রেখেছেন মেম্বার (সদস্য)।

ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আদাবাড়িয়া দেলবরের জমি থেকে সলিমপাড়া কবরস্থান পর্যন্ত একটি রাস্তা সংস্কারের জন্য কাগজে-কলমে ২৫ জন শ্রমিক নিযুক্ত আছেন। কিন্তু এ দিন এ প্রকল্পে কোনো শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি।

আরেকটি প্রকল্প তারাপুর আফসার আলীর বাড়ি থেকে আদাবাড়িয়া রশিদের বাড়ি অভিমুখে রাস্তার মেরামতকাজ শুরু করা হয় যথাসময়ে। তবে গত কয়েক দিন ১০-১২ জন শ্রমিক মাঝেমধ্যে রাস্তায় মাটি ফেলার কাজ করেছেন বলে জানায় স্থানীয়রা। অথচ এ প্রকল্পে মেরামতকাজের জন্য প্রতিদিন ২৫ জন শ্রমিকের নাম তালিকাভুক্ত আছে। তবে এ দিন এ প্রকল্পেও কোনো শ্রমিককে পাওয়া যায়নি।

তবে তিনটি প্রকল্পে কোনো শ্রমিকের দেখা পাওয়া না গেলেও দিলপাশার রেলস্টেশন থেকে বেতুয়ান খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য ২০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। তবে এখানে অনুমোদিত শ্রমিকের সংখ্যা ২৮ জন।

অভিযোগ অস্বীকার করে দিলপাশার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার ঘোষ বলেন, ‘বর্তমানে এ এলাকায় একজন শ্রমিকের দাম দৈনিক পাঁচ শ টাকা। কর্মসূচির আওতায় ১৭৫ টাকা দিনমজুরি দিয়ে উপজেলার কোথাও শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই বেশি টাকা ব্যয় হওয়ায় পর্যাপ্ত শ্রমিক কাজে লাগানো যায় না। এ ছাড়া ১৭৫ টাকা দিনে কর্মরত শ্রমিকরা দুপুর ১২টা বাজার আগেই চলে যায়।’ তাই এ প্রতিবেদক সরেজমিনে শ্রমিকদের পাননি বলে দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শামীম এহসান বলেন, ‘দিনমজুরি বেশি হওয়ায় মাঠপর্যায়ে শ্রমিকের সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি থাকতে পারে। তবে বরাদ্দের অর্থ অনুযায়ী পর্যাপ্ত কাজ ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা