kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

বগুড়া জেলা আ. লীগের সম্মেলন

সরেনি প্রচারযন্ত্রণা

লিমন বাসার, বগুড়া   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরেনি প্রচারযন্ত্রণা

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে ফেস্টুন, ব্যানার, তোরণে ভরে গেছে শহর। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে চালানো ‘প্রচারযন্ত্রণা’ অপসারণ করা হয়নি। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ের প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে গত ১৫ নভেম্বর সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হলেও দলীয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও জাতীয় মহাসড়কের চান্দাইকোনা থেকে বনানী হয়ে শহরের সার্কিট হাউস পর্যন্ত অর্ধশতাধিক তোরণ, কয়েক হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড নির্মাণ করা হয়েছে। এসব প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের ছবি ও পছন্দের প্রার্থীর ছবি প্রদর্শন করছেন।

কেন্দ্র থেকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছাড়া কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করা হয়েছে।

প্রস্তুতিতে গলদ

এদিকে আগামী শনিবার সম্মেলনকে সামনে রেখে যথাযথভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানান, অন্য দলের চেয়ে তাঁদের দলেই গণতন্ত্রের চর্চা বেশি হয়। এর পরও আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলন করতে হলে প্রথমে সদস্য সংগ্রহ, গ্রাম কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটি করতে হয়। কিন্তু বগুড়ার ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।

উপজেলা পর্যায়ে অনেক নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী দলের কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। এর পরও আমরা ভেদাভেদ ভুলে একটি যোগ্য নেতৃত্ব চাই। কারণ অনেকে আছেন, যাঁরা শুধু নামেই বিরাট নেতা। সাধারণ কর্মীদের পাশে তাঁদের যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি দলীয় কাজেও সময় ও অর্থ ব্যয় করেন না। এ মুহূর্তে শক্তভাবে দলের হাল না ধরলে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। কারণ দলের ভালো কাজগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে বরাবরই ব্যর্থ বগুড়ার নেতারা। এ কারণে প্রতিনিয়ত এই জেলায় আওয়ামী লীগের ভোট কমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে অংশগ্রহণকারীরা। বিগত ৪৫ বছর পর এবারই প্রথম প্রার্থীদের মধ্যে এ অস্থিরতা। বিগত দিনে জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে ছিলেন প্রয়াত নেতা মমতাজ উদ্দিন। তাঁর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা চান নেতৃত্ব হোক ত্যাগী আর বিতর্কহীন নেতাদের সমন্বয়ে। আর এটা করা না হলে ‘বিএনপির দুর্গ’ খ্যাত বগুড়ায় নেতৃত্ব জটিলতায় পড়তে হবে ক্ষমতাসীন দলকে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মমতাজ উদ্দিন সভাপতি ও মজিবর রহমান মজনু সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৪৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা মমতাজ উদ্দিন ২০১৯ সালের ১৭ ফেরুয়ারি মারা যান। তিন বছরমেয়াদি এ কমিটির সময় শেষ হয়েছে বিগত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত জেলার ১৩ সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে এক উপজেলা দ্বন্দ্বের কারণে আজও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি। আর গুরুত্বপূর্ণ শহর শাখাও ঠিক এভাবে চলছে ছয় বছর। শেষ সময়ে এসে সম্প্রতি তারা সম্মেলন করে।

টানা ৪৫ বছরের ইতিহাসে জেলা আওয়ামী লীগ নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের অনেকে জেলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক শুরু করেছেন। তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছেন যে সৎ, যোগ্য ও বিতর্কহীন নেতার বিকল্প নেই।

জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাশরাফি হিরো জানান, এবার ৫১৫ জন কাউন্সিলর তাঁদের ভোটাধিকার বা মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ৬৫ জন জেলা আওয়ামী লীগ থেকে, ৩৮৫ জন জেলার বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে এবং অন্য ৬৫ জন নির্ধারিত হবেন কাউন্সিল চলাকালে প্রথম অধিবেশনে কো-অপশন থেকে।

সম্মেলনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মনতেজার রহমান মন্টু জানান, সভাপতি পদে প্রার্থী হতে আটজন মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন।

এর মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হায়দার আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়। আর সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন ১৩ জন। এর মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী নাজমা খাতুনের মনোনয়ন বাতিল হয়। মমতাজ উদ্দিন বেঁচে থাকতে এভাবে সভাপতি কিংবা সম্পাদক প্রার্থী হতে দেখা যায়নি কাউকেই।

বগুড়ার জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন জানান, বগুড়ায় তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে আগের থেকে বেশি। প্রয়াত নেতা মমতাজ উদ্দিন সংগঠনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন বলেই সংগঠনের মজবুত ভিত্তি হয়েছে। আগামীতে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা