kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

বেনাপোল

ট্রাকে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি পণ্য বোঝাই ট্রাক থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা নেয় এক শ্রেণির পরিবহন শ্রমিকরা। বেনাপোল বাইপাস সড়ক থেকে রপ্তানি গেট পর্যন্ত কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে সিরিয়ালের নামে এই চাঁদা নেওয়া হয়।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এ বন্দর থেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ২০০ থেকে ২৩০ ট্রাক পণ্য বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করে। চালক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে শুরু হয় দর-কষাকষি। ট্রাকপ্রতি সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা নিয়ে থাকে শ্রমিক চক্রটি। টাকা না দিলে দিনের পর দিন রপ্তানিপণ্য নিয়ে রাস্তার ওপর খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেকটা বাধ্য হয়ে তাদের টাকা দিয়ে পণ্য ভারতে রপ্তানি করতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রাকচালক বলেন, ‘বেনাপোলের বড়আচড়া গ্রামের আবু সাঈদের নেতৃত্বে তবিবর, তরিকুল, শুকুর আলী ও নজরুল ইসলামসহ একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এখানে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে, যা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। পেছন থেকে এদের সহযোগিতা করে থাকে বেনাপোল, শার্শা ও বাগআচড়া নিয়ে গঠিত কথিত ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।’

বেনাপোলের এক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কর্মচারী হাফিজুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরের ট্রাক শ্রমিকদের কাছে রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা জিম্মি। তাদের টাকা না দিলে ভারতে রপ্তানীকৃত পণ্য বোঝাই ট্রাক এক দিনে প্রবেশ করানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ে ট্রাক ভারতে ঢোকাতে না পারলে যেমন ট্রাক ডেমারেজ দিতে হয়, তেমনি আবার রয়েছে শিপমেন্টের ঝামেলা। সঠিক সময়ে পণ্য না পৌঁছলে ভারতীয় আমদানিকারকরা পণ্য নিতে চায় না বিধায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের ট্রাকপ্রতি ৫০০ থেকে ক্ষেত্রবিশেষ ২০০০ টাকা দিতে হয়।

এ বিষয়ে বেনাপোল, শার্শা ও বাগআচড়া এলাকা নিয়ে গঠিত ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ঘেনা মোড়ল বলেন, ‘আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ট্রাকপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করে থাকি। এর বাইরে কোনো টাকা আদায় করা হয় না।’

বেনাপোল বন্দর থানার পরিদর্শক মামুন খান বলেন, ‘বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। রপ্তানি ট্রাক থেকে সিরিয়ালের নামে কেউ চাঁদাবাজি করে থাকলে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা