kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

মহাদেবপুর অভয়াশ্রম

ড্রেজারের শব্দে পালাচ্ছে পাখি

মহাদেবপুর-বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ড্রেজারের শব্দে পালাচ্ছে পাখি

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মধুবন গ্রামে আত্রাই নদে ড্রেজারের শব্দে বসছে না পাখি। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রতিবছর শীত মৌসুমে হাজারো পাখির কল-কাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মধুবন গ্রামসংলগ্ন আত্রাই নদ। এ নদে বছরে প্রায় সাত-আট মাস পাখি থাকে। পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকে ২০১৩ সালে স্থানীয় কিছু যুবক সেখানে গড়ে তোলেন পাখির অভয়াশ্রম। কিন্তু এই পাখিপ্রেমীদের বাধাকে উপেক্ষা করে ড্রেজার মেশিন বসিয়েছেন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন, যিনি বালু মোয়াজ্জেম নামে পরিচিত। ড্রেজারের বিকট শব্দে অভয়াশ্রমে বসতে পারছে না পাখি। সেখানে মানুষের অবাধ বিচরণে হুমকির মুখে পড়েছে পাখির অভয়াশ্রমটি।

জানা যায়, উপজেলার মধুবন গ্রামসংলগ্ন আত্রাই নদে ২০১২ সাল থেকে শীতকালে অল্পসংখ্যক পরিযায়ী পাখি আসতে থাকে। মানুষের মাঝে সচেতনতা না থাকায় কিছু মানুষ প্রথম বছর বিভিন্নভাবে পাখি শিকারের চেষ্টা করে। ২০১৩ সালে আবারও পাখি আসতে শুরু করলে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রাণ ও প্রকৃতি’র কাজী নাজমুল, আইনুল ইসলাম, মোকলেসুর রহমানসহ যুবকদের সম্পৃক্ত করে পাখির জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ, কচুরিপানা ও গাছের ডালপালা দিয়ে অভয়াশ্রম গড়ে তোলেন। প্রতি শীতে বালিহাঁস, সরালিহাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরা, বক, মাছরাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এখানে আশ্রয় নেয়।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী পাম্প, খননযন্ত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আত্রাই নদ থেকে বালু তোলার ক্ষেত্রে আইন মানা হচ্ছে না। বছরের পর বছর খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছেন মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক বালু ব্যবসায়ী। পাখির অভয়াশ্রমে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করলেও রহস্যজনক কারণে নীরব প্রশাসন। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহলে।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রাণ ও প্রকৃতির’ সভাপতি কাজী নাজমুল বলেন, ‘গত বছরও একই কাজ করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। আমাদের ড্রেজার মেশিন সরাতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছিল। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার একই কাজ করেন। এ বছর আবারও পাখির অভয়াশ্রমে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। আমাদের মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষ এত বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তির কাছে অসহায়। দ্রুত ড্রেজার মেশিন সরিয়ে না নিলে হয়তো আর রক্ষা করা যাবে না পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রমটি।’

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন’-এর (বিবিসিএফ) কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও মহাদেবপুর থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম রসুল বাবু বলেন, ‘কয়েক বছর থেকে নব্য আওয়ামী লীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন পাখির অভয়াশ্রমটি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছেন। গত বছর অনেক চেষ্টার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ড্রেজার মেশিন সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার আবারও পাখির অভয়াশ্রমে ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় আমরা সরকারের সাহায্য চাই।’

এ ব্যাপারে বালু ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘পাখির অভয়াশ্রম থেকে আমরা বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছি দুই মাস আগে। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ড্রেজার মেশিনটি নষ্ট হয়ে সেখানে পড়ে আছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বিষয়টি অবগত আছেন। তিনি বলেন, ‘বালুমহালটি জেলা থেকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। কারণ বালু উত্তোলনেরও প্রয়োজন আছে। আবার অভয়াশ্রমে পাখির নিরাপত্তারও দরকার আছে। তাই ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে অভয়াশ্রম থেকে ড্রেজার মেশিন দূরে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা